কুষ্টিয়ার খোকসায় যাত্রীবাহী বাস ও ড্রামট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ জন। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খোকসার শিমুলিয়া দক্ষিণ কুঠিপাড়া মসজিদের সামনে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। কুষ্টিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ওবায়েদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নিহতদের মধ্যে রাফিয়া (১৫) নামের এক স্কুলছাত্রীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকিদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
এ ঘটনায় আহতদের ভর্তি করা হয়েছে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে ১০ থেকে ১৫ জনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। বর্তমানে তাদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিবিড় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
যশোরে দ্রুতগতির কাভার্ডভ্যান, ইজিবাইক ও রিকশার মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষে নারীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যশোর-খুলনা মহাসড়কের চাউলিয়া তেল পাম্পের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নওয়াপাড়া হাইওয়ে থানার ওসি ফজলুল করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেন— সদরের ঘোড়াগাছা গ্রামের সুজন সাহার স্ত্রী বৃষ্টি সাহা (২৪), শিশুপুত্র সৌভিক সাহা (৪), চাউলিয়া গ্রামের মৃত কালু শেখের ছেলে আনোয়ার ওরফে আনার আলী (৭০) ও ঘুনি গ্রামের হযরত আলী মোল্যার ছেলে ইজিবাইক চালক আইয়ুব আলী (৪৩)। দুর্ঘটনায় মনিরামপুর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের মশিউর রহমানের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন (২৮) গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, খুলনা থেকে যশোরগামী একটি দ্রুতগতির কাভার্ডভ্যান চাউলিয়া তেল পাম্পের সামনে পৌঁছালে বিপরীতমুখী ইজিবাইক ও রিকশার সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ইজিবাইক চালক আইয়ুব আলী ও যাত্রী বৃষ্টি সাহা মারা যান। স্থানীয়রা গুরুতর আহত আনার আলী, সাজ্জাদ ও সৌভিক সাহাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছু সময় পর আনার আলী ও সৌভিক সাহাও মারা যান। দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা ঘটনাস্থলে প্রায় আধা ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখলে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে মোটরসাইকেল নিয়ে আঞ্চলিক সড়ক থেকে মহাসড়ক পারাপারের সময় দ্রুতগতির মালবাহী ট্রাকের চাপায় তিন মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়কের রানীগঞ্জ বাজার এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— ঘোড়াঘাট উপজেলার নূরপুর এলাকার মোশাররফ হোসেনের ছেলে আলামিন (১৫), মগলিশপুর এলাকার সলিমুদ্দিনের ছেলে সৈকত (১৬) এবং আফসারাবাদ এলাকার সমেশ উদ্দিনের ছেলে কাইয়ুম (২০)। ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, আরোহীরা মোটরসাইকেল নিয়ে আঞ্চলিক সড়ক থেকে রানীগঞ্জ বাজার বড় মসজিদের সামনে পাকা রাস্তার (মহাসড়ক) ওপর ওঠার সময় একটি ট্রাকের সাথে ধাক্কা লেগে সড়কের ওপর ছিটকে পড়েন। ঠিক একই সময়ে সামনে থাকা দিনাজপুরগামী আরেকটি মালবাহী ট্রাক তাদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই আলামিন নামের এক কিশোরের মৃত্যু হয়। বাকি দুজনকে উদ্ধার করে দ্রুত ঘোড়াঘাট (ওসমানপুর) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় কোরবানির জন্য গরু দেখতে গিয়ে বাসচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই কিশোর নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন। শনিবার (২৩ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার আনসার ক্যাম্প এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— কচুয়াই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জাহেদুল আলমের ছেলে ওয়ালিদ আল তাসলিম (১৭) এবং একই এলাকার আকতার হোসেনের ছেলে শাহাদাত হোসেন সামি (১৬)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে তিন বন্ধু মোটরসাইকেলে করে কোরবানির গরু দেখতে বের হয়। দুপুরে আনসার ক্যাম্প এলাকায় পৌঁছালে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা হানিফ এন্টারপ্রাইজের একটি দ্রুতগতির বাস মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও একজনের মৃত্যু হয়।







