বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ন

অতিবৃষ্টি ও বজ্রপাত থেকে বাঁচতে নবীজির শেখানো আমল

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬

বর্ষা মৌসুমে অনেক সময় অতিবৃষ্টি জনজীবনে দুর্ভোগ নিয়ে আসে, আর বজ্রপাত হয়ে দাঁড়ায় প্রাণঘাতী। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের মুহূর্তে মুমিন বান্দার কর্তব্য হলো আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বৃষ্টির সময় এবং বজ্রপাতের শব্দ শুনলে বিশেষ কিছু দোয়া পাঠ করতেন।

সম্প্রতি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অতিবৃষ্টি ও বজ্রপাতের প্রকোপ বেড়েছে। ইসলামি শরিয়তে প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের সময় আতঙ্কিত না হয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং নির্দিষ্ট কিছু দোয়া পাঠ করার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।

১. অতিবৃষ্টি থেকে রক্ষার দোয়া
যখন অতিবৃষ্টির কারণে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিত, তখন মহানবী (সা.) এই দোয়াটি পাঠ করতেন:

আরবি: اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلاَ عَلَيْنَا ، اللَّهُمَّ عَلَى الآكَامِ وَالظِّرَابِ ، وَبُطُونِ الأَوْدِيَةِ ، وَمَنَابِتِ الشَّجَرِ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়ালা আলাইনা; আল্লাহুম্মা আলাল আকামি ওয়াজ জিরাবি ওয়া বুতুনিল আওদিয়াতি ওয়া মানাবিতিশ শাজার। (সহিহ বুখারি)

অর্থ: হে আমার আল্লাহ! আমাদের চারপাশ থেকে বৃষ্টি সরিয়ে নিন, আমাদের ওপর দেবেন না। হে আল্লাহ! পাহাড়, মালভূমি, উপত্যকা এবং বনভূমির ওপর বৃষ্টি বর্ষণ করুন।

২. বজ্রপাত ও বিজলি চমকানোর দোয়া
বজ্রপাতের শব্দ শুনলে রাসুলুল্লাহ (সা.) কথা বলা বন্ধ করে দিতেন এবং এই তসবিহটি পাঠ করতেন:

আরবি: سُبْحَانَ الَّذِي يُسَبِّحُ الرَّعْدُ بِحَمْدِهِ وَالْمَلَائِكَةُ مِنْ خِيفَتِهِ

উচ্চারণ: সুবহানাল্লাজি ইউসাব্বিহুর রা’দু বিহামদিহি ওয়াল মালাইকাতু মিন খিফাতিহি। (মুয়াত্তা ইমাম মালিক)

অর্থ: পবিত্র সেই মহান সত্তা, যাঁর প্রশংসা পাঠ করে বজ্র এবং ফেরেশতারা তাঁর ভয়ে প্রকম্পিত হয়।

হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি বজ্রপাতের সময় এই দোয়াটি পড়বে, সে বজ্রপাত থেকে নিরাপদ থাকবে।

৩. বজ্রপাতের সময় আল্লাহর কাছে আশ্রয়
বজ্রপাতের শব্দ শুনে নবীজি (সা.) আরেকটি দোয়া পাঠ করতেন:

আরবি: اللَّهُمَّ لاَ تَقْتُلْنَا بِغَضَبِكَ وَلاَ تُهْلِكْنَا بِعَذَابِكَ وَعَافِنَا قَبْلَ ذَلِكَ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লা তাকতুলনা বিগজাবিকা ওয়া লা তুহলিকনা বিআযাবিকা, ওয়া আফিনা কাবলা যালিকা। (তিরমিজি)

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনার গজব দিয়ে আমাদের মেরে ফেলবেন না এবং আপনার আজাব দিয়ে আমাদের ধ্বংস করবেন না। বরং এর আগেই আমাদের ক্ষমা ও নিরাপত্তা দান করুন।

৪. সাধারণ বৃষ্টির সময়ের দোয়া
বৃষ্টির সময় দোয়া কবুল হয়। স্বাভাবিক বৃষ্টির সময় নবীজি (সা.) বলতেন- ‘আল্লাহুম্মা সয়্যিবান নাফিআ’ (হে আল্লাহ! আমাদের জন্য উপকারী বৃষ্টি দান করুন)। তবে বৃষ্টি যখন ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন দোয়া পরিবর্তন করে আল্লাহর রহমত কামনা করা সুন্নাহ।

সতর্কতা:
ধর্মীয় আমলের পাশাপাশি বজ্রপাতের সময় বৈজ্ঞানিক সতর্কতা অবলম্বন করাও জরুরি। খোলা জায়গা থেকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়া, উঁচু গাছ বা বৈদ্যুতিক খুঁটির নিচে না দাঁড়ানো এবং ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি থেকে দূরে থাকা প্রয়োজন।

প্রকৃতির সবকিছুর নিয়ন্ত্রক একমাত্র আল্লাহ তায়ালা। তাই যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিচলিত না হয়ে নবীজি (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করা এবং আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা চাওয়া প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102