ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতসমূহের মধ্যে এশা পরবর্তী বিতর নামাজ অন্যতম। এটি ওয়াজিব নাকি সুন্নতে মুয়াক্কাদা, তা নিয়ে যেমন আলোচনা রয়েছে, তেমনি এর রাকাত সংখ্যা এবং পড়ার নিয়ম নিয়ে মুসলিম উম্মাহর প্রধান মাজহাবগুলোর মধ্যে কিছু ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। সাধারণ মুসল্লিদের মাঝে এ নিয়ে প্রায়ই কৌতুহল দেখা দেয়।
বিতর নামাজের রাকাত সংখ্যা
বিতর নামাজের রাকাত সংখ্যা নিয়ে মূলত দুই ধরণের শক্তিশালী মত রয়েছে:
তিন রাকাত: হানাফি মাজহাব অনুযায়ী বিতর নামাজ তিন রাকাত এবং তা এক সালামে পড়তে হয়।
এক, তিন, পাঁচ বা ততোধিক: শাফিঈ, মালেকি ও হাম্বলি মাজহাব অনুযায়ী বিতর এক রাকাতও হতে পারে। আবার কেউ চাইলে তিন, পাঁচ বা তার বেশি বিজোড় সংখ্যক রাকাত পড়তে পারেন।
পড়ার নিয়মে প্রধান ভিন্নতাসমূহ
বিভিন্ন মাজহাব ও হাদিসের ব্যাখ্যার আলোকে বিতর নামাজ পড়ার প্রধান দুটি পদ্ধতি বহুল প্রচলিত:
১. হানাফি পদ্ধতি (তিন রাকাত এক সালামে)
বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ এই পদ্ধতিতে নামাজ আদায় করেন। এর নিয়ম হলো:
মাগরিবের নামাজের মতো দুই রাকাত পড়ে প্রথম বৈঠকে বসতে হয়।
তৃতীয় রাকাতে সূরা ফাতেহার পর অন্য একটি সূরা মেলাতে হয়।
রুকুতে যাওয়ার আগে তাকবির দিয়ে হাত উঠিয়ে পুনরায় বাঁধতে হয় এবং দোয়ায়ে কুনুত পাঠ করতে হয়।
এরপর রুকু ও সেজদা দিয়ে এক সালামে নামাজ শেষ করতে হয়।
২. অন্যান্য পদ্ধতি (সালামের ভিন্নতা)
আহলে হাদিস এবং অন্যান্য কিছু মাজহাবের মতে বিতর পড়ার ভিন্ন নিয়ম রয়েছে:
দুই রাকাত পর সালাম: প্রথমে দুই রাকাত পড়ে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করা হয়। এরপর পৃথকভাবে এক রাকাত নামাজ আদায় করা হয়।
টানা তিন রাকাত: মাগরিবের মতো মাঝখানে না বসে সরাসরি তৃতীয় রাকাতে গিয়ে বৈঠক করা। এক্ষেত্রে রুকুর আগে বা পরে দোয়ায়ে কুনুত পড়ার প্রচলন রয়েছে।
বিতর নামাজ কি ওয়াজিব নাকি সুন্নত?
ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, বিতর নামাজ ওয়াজিব। অর্থাৎ এটি ছেড়ে দিলে গুনাহ হবে এবং কাজা করা জরুরি। অন্যদিকে, ইমাম শাফিঈ, মালেকি ও হাম্বলি (রহ.)-এর মতে এটি সুন্নতে মুয়াক্কাদা বা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। তবে রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনো বিতর নামাজ ছাড়তেন না, যা এর গুরুত্বকে প্রমাণ করে।
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, বিতর নামাজের রাকাত বা নিয়ম নিয়ে এই ভিন্নতা মূলত হাদিসের ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যার কারণে। একে কেন্দ্র করে বিভেদ সৃষ্টি করা কাম্য নয়।
“রাসুলুল্লাহ (সা.) বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে বিতর আদায় করেছেন। তাই বিশুদ্ধ নিয়ত ও একাগ্রতার সাথে যেকোনো একটি স্বীকৃত পদ্ধতি অনুসরণ করলেই নামাজ কবুল হবে ইনশাআল্লাহ।”
বিতর নামাজ রাতের শেষ অংশে পড়া উত্তম, তবে যারা শেষ রাতে উঠতে পারবেন না বলে আশঙ্কা করেন, তারা এশার নামাজের পরপরই এটি আদায় করে নিতে পারেন। ইসলামের এই বৈচিত্র্য মূলত উম্মাহর জন্য সহজীকরণের একটি অংশ।