শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন

ট্রাম্প অনুমোদন দিলেই ইরানে ‘স্বল্পমেয়াদি ও শক্তিশালী’ হামলা

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬

ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অচলাবস্থার মধ্যেও ‘অনির্দিষ্টকালের’ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলা পুনরায় শুরু করার পরিকল্পনা করছেন বলে জানা গেছে। 

গতকাল বুধবার দুটি বেনামী সূত্রের বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের জন্য নতুন পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার ট্রাম্পকে এসব নতুন পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করবেন। এই ব্রিফিং ইঙ্গিত দেয় যে, মার্কিন সর্বাধিনায়ক ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছেন। এর লক্ষ্য হতে পারে শান্তি আলোচনায় অচলাবস্থা ভাঙা বা যুদ্ধ শেষ করার আগে ‘চূড়ান্ত আঘাত’ হানা।

সেন্টকমের সম্ভাব্য পরিকল্পনা

সূত্রগুলো জানিয়েছে, সেন্টকমের বিবেচনাধীন একটি পরিকল্পনা হলো ইরানের ওপর ‘স্বল্পমেয়াদী কিন্তু শক্তিশালী’ ধারাবাহিক হামলা চালানো। এতে অবকাঠামোগত লক্ষ্যবস্তুও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এর মাধ্যমে তেহরানের সরকারকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা- এই হামলার ফলে ইরান পারমাণবিক ইস্যুতে আরও নমনীয় অবস্থান নিতে পারে।

এর আগে ট্রাম্প ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছিলেন। তবে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী, বেসামরিক নাগরিকদের জন্য অপরিহার্য স্থাপনায় হামলা নিষিদ্ধ।

সেন্টকম আরেকটি পরিকল্পনাও উপস্থাপন করতে পারে, যেখানে হরমুজ প্রণালির একটি অংশ দখল করে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু করার কথা বলা হয়েছে। তবে এই ধরনের অভিযানে স্থলবাহিনীর সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অবরোধ ও সামরিক চাপ

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধকে প্রধান কূটনৈতিক চাপ হিসেবে দেখছেন। তবে ইরান যদি তাতে নতি স্বীকার না করে, তাহলে তিনি সামরিক পদক্ষেপের দিকেও যেতে পারেন।

বর্তমান ইরান-সংক্রান্ত সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রে তেমন জনপ্রিয় নয়, কিন্তু এটি বৈশ্বিক বাজারে প্রভাব ফেলেছে এবং তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। হরমুজ প্রণারি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়, যা এখন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

তৃতীয় বিকল্প

অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, আলোচনায় একটি তৃতীয় বিকল্পও উঠে আসতে পারে- ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ নিরাপদে জব্দ করতে বিশেষ বাহিনীর অভিযান চালানো।

ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে একটি বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এই কারণেই যুদ্ধ শুরু করা হয়েছিল, যা এখন ৬০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলছে।

এদিকে যদিও তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি)-র অধীনে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক প্রযুক্তি উন্নয়নের অধিকার তাদের রয়েছে।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনও এই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেন।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর ইরানে হামলার দুই দিন আগে কুপার ট্রাম্পকে একই ধরনের ব্রিফিং দিয়েছিলেন।

ওই হামলার জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হানে, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যসহ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102