এ বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মোট ২৮৭টি মনোনয়ন জমা পড়েছে বলে জানিয়েছে নরওয়েজিয়ান নোবেল ইনস্টিটিউট। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।
ইনস্টিটিউটটি জানিয়েছে, এবারের তালিকায় ২০৮ জন ব্যক্তি এবং ৭৯টি সংস্থা রয়েছে। তবে নোবেল প্রথা অনুযায়ী মনোনীতদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
এক বিবৃতিতে নোবেল ইনস্টিটিউট বলেছে, ২০১৬ সালে রেকর্ড ৩৭৬টি মনোনয়ন জমা পড়লেও এবারের সংখ্যা তুলনামূলক কম, তবে তা এখনো ‘ধারাবাহিকভাবে উচ্চ’।
তারা আরও জানায়, ‘ক্রমবর্ধমান সংঘাতপূর্ণ বিশ্বে এমন প্রার্থীর অভাব নেই, যাদের নীতিগত অঙ্গীকার ও উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ড একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেয়।’
নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি বছর ৩১ জানুয়ারির মধ্যে মনোনয়ন জমা দিতে হয়। তবে কমিটির সদস্যরা ২৬ ফেব্রুয়ারির পর অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকে নতুন নাম তালিকায় যুক্ত করতে পারেন।
নোবেল বিধি অনুসারে, মনোনীত ব্যক্তিদের পরিচয় ৫০ বছর পর্যন্ত গোপন রাখা হয়। তবে মনোনয়নের যোগ্য ব্যক্তিরা—যেমন বিভিন্ন দেশের সাবেক নোবেল বিজয়ী, আইনপ্রণেতা, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক- তারা চাইলে নিজেদের মনোনয়নের তথ্য প্রকাশ করতে পারেন।
এ বছরের আলোচিত মনোনীতদের মধ্যে রয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, সুইডিশ জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান।
এছাড়াও কিছু মনোনয়নদাতা জানিয়েছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মনোনীত করেছেন। তিনি পূর্বে দাবি করেছিলেন যে, তিনি আটটি যুদ্ধ বন্ধে ভূমিকা রেখেছেন।
এর আগে ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্তে ট্রাম্প তার অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে পরে মাচাদো নিজের নোবেল পুরস্কার ট্রাম্পকে উৎসর্গ করেন এবং জানুয়ারিতে তার পদকটি তাকে প্রদান করেন।
তবে নোবেল শান্তি পুরস্কার কমিটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, পদক নিজেই পুরস্কার নয়, এবং এই সম্মান বিজয়ীর ব্যক্তির সঙ্গেই অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত থাকে।
উল্লেখ, নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর নাম আগামী ৯ অক্টোবর ঘোষণা করা হবে।