রমজান মাসে খেজুরের চাহিদা থাকে আকাশচুম্বী। এর পেছনে প্রধানত ধর্মীয় ও পুষ্টিগত কিছু কারণ রয়েছে। ইসলাম ধর্মে রমজান মাসের ইফতারে খেজুর খাওয়ার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। নবী করিম (সা.) খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। তাই মুসলমানরা এটি সুন্নত হিসেবে পালন করেন। চাহিদার কারণে রমজানের আগেই বাজারে বিভিন্ন জাতের খেজুর, যেমন—আজওয়া, সুকারি, জাহিদি, মেদজুল-এ ভরে ওঠে।
১. স্বাস্থ্যগত উপকারিতা (পুষ্টিগুণ)
দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগাতে খেজুরের কোনো বিকল্প নেই।
২. তাৎক্ষণিক শক্তি
খেজুরে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক চিনি (গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ ও সুক্রোজ) থাকে, যা ইফতারের পর দ্রুত শরীরে শক্তি জোগায়।
৩. হজমে সহায়তা ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর
খেজুরে প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার থাকে, যা হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং রোজার সময় কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।
৪. পটাশিয়াম ও ইলেক্ট্রোলাইট
সারাদিন পানি না খাওয়ার ফলে শরীর যে পটাশিয়ামের ঘাটতি তৈরি হয়, তা খেজুর পূরণ করে। এ ছাড়া এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সহায়তা করে।
৫. ভিটামিন ও খনিজ
খেজুরে আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি৬ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা শরীরের ক্লান্তি দূর করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
১. ধর্মীয় ও সুন্নতি কারণ (প্রধান কারণ)
রোজার ভাঙার সুন্নত : ইসলাম ধর্মে ইফতারের সময় খেজুর বা পানি দিয়ে রোজা ভাঙা সুন্নত হিসেবে গণ্য করা হয়। নবী করিম (সা.) খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। তাই বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমান এটি পালন করেন।
২. স্বাস্থ্যগত ও বৈজ্ঞানিক কারণ
সারাদিন রোজা রাখার পর শরীরের জন্য খেজুর অত্যন্ত উপকারী। প্রতিদিন ইফতারে অন্তত দু-তিনটি খেজুর খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
(ক) তাৎক্ষণিক শক্তি
খেজুর প্রাকৃতিক চিনির (গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ) একটি চমৎকার উৎস। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর এটি শরীরকে তাৎক্ষণিকভাবে শক্তি জোগায়।
(খ) হজম প্রক্রিয়া সহজ
খেজুর খুব দ্রুত হজম হয় এবং এটি পাকস্থলীর জন্য আরামদায়ক।
(গ) কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ
খেজুরে প্রচুর ফাইবার থাকে, যা রোজার সময় অনেকের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে।
৩. সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যগত কারণ
(ক) ইফতারের অপরিহার্য উপাদান
মুসলিম সংস্কৃতিতে ইফতারের টেবিল খেজুর ছাড়া কল্পনাই করা যায় না। এটি ইফতারের প্রতীকী খাদ্য হয়ে উঠেছে।
(খ) ঐতিহ্য
পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে একসঙ্গে ইফতার করার সময় খেজুর একটি অপরিহার্য আইটেম হিসেবে পরিবেশন করা হয়।
খেজুর শুধু ধর্মীয় রীতিই নয়, বরং শরীরকে দ্রুত কর্মক্ষম ও সুস্থ রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হওয়ায় রমজানে এর চাহিদা এত বেশি থাকে। রমজান মাসে খেজুরের চাহিদা এত বেশি থাকার পেছনে প্রধানত ধর্মীয় বিশ্বাস, ঐতিহ্য এবং বৈজ্ঞানিক কারণ—এই তিনটি বিষয় কাজ করে। শুধু ধর্মীয় রীতিই নয়, বরং এটি শরীরকে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখার জন্য একটি বিজ্ঞানসম্মত অভ্যাস।