কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক এবং কর ফাঁকির অভিযোগে তদন্ত শুরুর পর পদত্যাগ করেছেন ফ্রান্সের সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী ও ‘আরব ওয়ার্ল্ড ইনস্টিটিউট’-এর প্রেসিডেন্ট জ্যাক ল্যাং।
শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
শনিবার সকালেই ফ্রান্সের আর্থিক প্রসিকিউটর দপ্তর জ্যাক ল্যাং এবং তার মেয়ে ক্যারোলিন ল্যাং-এর বিরুদ্ধে ‘গুরুতর কর ফাঁকি ও অর্থ পাচারের’ অভিযোগে তদন্ত শুরু করে।
গত ৩০ জানুয়ারি মার্কিন বিচার বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, ২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ল্যাং এবং এপস্টেইনের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও আর্থিক লেনদেন ছিল। এই তথ্য জানাজানি হওয়ার পর থেকেই তার পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথিতে জ্যাক ল্যাং-এর নাম ৬০০ বারের বেশি উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে গত সোমবার তার মেয়ে ক্যারোলিন ল্যাং ও এপস্টেইনের সঙ্গে যোগসূত্র প্রকাশ পাওয়ার পর ফ্রান্সের ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রোডাকশন ইউনিয়ন’-এর প্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দেন।
জ্যাক ল্যাং তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে তিনি জানান, তদন্তকে তিনি স্বাগত জানাচ্ছেন এবং আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করবেন।
তার আইনজীবী লরেন্ট মার্লেট সংবাদমাধ্যমকে বলেন, কোনো ধরনের অর্থ লেনদেনের প্রমাণ নেই, তবে বিচার বিভাগ সত্যতা যাচাই করতে চাইলে তাতে আমাদের পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে।
এপস্টেইন কেলেঙ্কারিতে জ্যাক ল্যাং-এর নাম আসায় বিশ্বজুড়ে ফের চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রু, নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস মেট-মারিট এবং ব্রিটেনের সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসনের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নামও এপস্টেইন ফাইলের মাধ্যমে সামনে এসেছিল।