‘আহলান সাহলান মাহে রমজান’। ধরণীর বুকে আবার ফিরে এলো মহান আল্লাহর রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে পবিত্র মাস রমজান। বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের জন্য এটি কেবল পানাহার থেকে বিরত থাকার মাস নয়; বরং এটি আত্মশুদ্ধি, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময়।
ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে রমজান মাসের গুরুত্ব অপরিসীম। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহতায়ালা বলেছেন, “হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর; যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।” (সূরা বাকারা: ১৮৩)
এই আয়াতের মাধ্যমেই স্পষ্ট হয় যে, রোজার মূল লক্ষ্য কেবল উপোস থাকা নয়, বরং ‘তাকওয়া’ বা আল্লাহভীতি অর্জন করা।
আত্মশুদ্ধি ও নফসের দমন রোজা মানুষকে ধৈর্য ও সংযমের শিক্ষা দেয়। সারাদিন খাদ্য ও পানীয় থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে একজন মুমিন নিজের কুপ্রবৃত্তি বা ‘নফস’কে দমন করার প্রশিক্ষণ নেয়। মিথ্যা বলা, গিবত (পরনিন্দা), ঝগড়া-বিবাদ এবং যাবতীয় পাপাচার থেকে নিজেকে মুক্ত রেখে অন্তরের পবিত্রতা অর্জনের সুবর্ণ সুযোগ এই মাস।
কোরআনের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক রমজান মাস হলো পবিত্র কোরআন নাজিলের মাস। এ মাসে কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে দৃঢ় করার নির্দেশনা রয়েছে। মসজিদগুলোতে তারাবিহ নামাজের মাধ্যমে খতমে কোরআন, ঘরে ঘরে কোরআন তিলাওয়াত এবং এর অর্থ ও মর্ম বোঝার চেষ্টা রমজানের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য।
দানশীলতা ও মানবিকতা ইসলামে রমজানকে ভ্রাতৃত্বের মাস হিসেবেও অভিহিত করা হয়েছে। ক্ষুধার্ত থাকার কষ্টের মাধ্যমে একজন মুমিন সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের ক্ষুধার যন্ত্রণা অনুভব করে। এ মাসে দান-খয়রাত, ইফতার করানো এবং যাকাত আদায়ের প্রবণতা বেড়ে যায়, যা সমাজে সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে।
বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও আলেমগণ মনে করেন, রমজান হলো একটি ট্রেনিং কোর্স। এ মাসের শিক্ষাকে যদি সারা বছর ধরে রাখা যায়, তবেই একজন মানুষ প্রকৃত মুমিন হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। তাদের মতে, “সঠিক নিয়তে রোজা রাখা, নামাজ কায়েম করা এবং পাপাচার থেকে বিরত থাকাই রমজানের মূল শিক্ষা।”
রমজান মাসের প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত মূল্যবান। বিগত জীবনের পাপগুলো মোচন করে নতুনভাবে জীবন গড়ার প্রত্যয় নিয়ে রমজানকে স্বাগত জানানো উচিত। আসুন, আমরা রোজার প্রকৃত উদ্দেশ্য উপলব্ধি করি এবং নিজের জীবনকে আল্লাহর নির্দেশিত পথে পরিচালিত করার শপথ নিই।