সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন

‘নিপাহ ভাইরাসে বাংলাদেশে একজনের মৃত্যু

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

নওগাঁয় নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। রাজশাহী বিভাগে নতুন করে সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই রোগ আন্তর্জাতিক মহামারিতে রূপ নেওয়ার ঝুঁকি কম।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে জানায়, নিহত ওই নারীর বয়স ৪০ থেকে ৫০ বছর। গত ২১ জানুয়ারি থেকে তার শরীরে তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা ও শ্বাসকষ্টের উপসর্গ দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে ২৭ জানুয়ারি তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

২৮ জানুয়ারি তার গলার শ্লেষ্মা ও রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরদিন ২৯ জানুয়ারি পরীক্ষায় নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় কয়েক দিনের মধ্যেই তার মৃত্যু ঘটে।

সংস্থাটি জানায়, ৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ‘ইন্টারন্যাশনাল হেলথ রেগুলেশনস ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্ট’ (আইএইচআর এনএফপি) এই সংক্রমণের তথ্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই নারীর সাম্প্রতিক কোনো ভ্রমণের ইতিহাস ছিল না। তবে অসুস্থ হওয়ার আগে তিনি কাঁচা খেজুরের রস পান করেছিলেন। নিপাহ ভাইরাসের প্রধান বাহক ‘টেরোপাস’ প্রজাতির ফলাহারি বাদুড়। শীতকালে খেজুরের রস সংগ্রহের হাঁড়িতে বাদুড়ের লালা বা মলমূত্রের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা কাঁচা রস পান করলে মানুষের শরীরে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি করে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০০১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৩৪৮ জন নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তের প্রায় অর্ধেকই কাঁচা খেজুরের রস পান করার মাধ্যমে সংক্রমিত হন। অন্যদের ক্ষেত্রে সংক্রমিত ব্যক্তির সরাসরি সংস্পর্শে এসে ভাইরাস ছড়িয়েছে।

গত সপ্তাহে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দুজনের শরীরে নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত এলাকায় সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। একই সময়ে এশিয়ার কয়েকটি দেশ বিমানবন্দরে যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করেছে।

এ পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, বিদ্যমান তথ্যের ভিত্তিতে নিপাহ ভাইরাসের বৈশ্বিক ঝুঁকি এখনো কম। বর্তমানে কোনো দেশ বা অঞ্চলের ওপর ভ্রমণ বা বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করা হচ্ছে না।

সংস্থাটি আরও জানায়, নিপাহ একটি প্রাণী থেকে মানুষে সংক্রমিত হওয়া ভাইরাস। এ রোগের নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ বা টিকা এখনো নেই। সংক্রমিতদের মধ্যে মৃত্যুহার প্রায় ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নজরদারি ও পরীক্ষা কার্যক্রম বাড়িয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে ঝুঁকি এড়ানোর বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে সাধারণত ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে। এ সময় জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102