দীর্ঘ ৯ বছরের প্রেমের পর বিয়ে করেছিলেন জিতেন্দ্র কুমার যাদব ও জ্যোতি। কিন্তু বিয়ের মাত্র দুই মাসের মধ্যে সেই সম্পর্কের করুণ পরিণতি ঘটে। স্বামী জিতেন্দ্রকে খুনের অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রী জ্যোতির বিরুদ্ধে। পুলিশ জানিয়েছে, জ্যোতির বাবা-মা এবং ভাইও হত্যায় সহযোগিতা করেছিলেন।
ভারতের উত্তরপ্রদেশের বরেলিতে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্থানীয় পুলিশ জানায়, ৩৩ বছর বয়সি জিতেন্দ্রকে ইজ্জতনগর এলাকার এক ভাড়া বাড়ি থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে প্রতিবেশীরা ধারণা করেছিলেন, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে ময়নাতদন্তে জানা যায়, জিতেন্দ্র শ্বাসরোধের মাধ্যমে হত্যা হয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, জিতেন্দ্রকে গলা টিপে হত্যা করেছেন তারই স্ত্রী। হত্যাকাণ্ড ঢাকার চেষ্টা করতে শ্বশুর, শাশুড়ি ও শ্যালকও সহযোগিতা করেছেন। জানলার গ্রিলে মাফলার পেঁচিয়ে জিতেন্দ্রের মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। এরই মধ্যে তিনজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া জ্যোতির ভাইকে ধরার চেষ্টা চলছে।
এনডিটিভি জানায়, জ্যোতি ও জিতেন্দ্রের বিয়ে হয়েছিল গত বছরের ২৫ নভেম্বর। বিয়ের আগে তাদের ৯ বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ছাত্রজীবন থেকেই তারা সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে হয়েছিল। তবে বিয়ের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আর্থিক বিষয় নিয়ে সংসারে ঝামেলা শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থলকে আত্মহত্যা মনে করা হলেও, জিতেন্দ্রের ভাই অজয় কুমারের অভিযোগের পর তদন্ত শুরু হয়। ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ শ্বাসরোধের মাধ্যমে হত্যা হিসেবে নিশ্চিত হওয়ায় মামলা আত্মহত্যার থেকে হত্যার মামলা হিসেবে পরিবর্তন করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, জ্যোতি হত্যার অভিযোগ স্বীকার করেছেন এবং তার স্বামীর মৃত্যুর আগে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।