মিনেসোটায় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) দ্বারা আটক পাঁচ বছর বয়সি শিশু লিয়াম কোনেহো রামোস ও তার বাবা আদ্রিয়ান আলেক্সান্ডার কোনেহো আরিয়াস অবশেষে বাড়ি ফিরেছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন কংগ্রেসম্যান জোয়াকুইন কাস্ত্রো।টেক্সাসের ডিলি ডিটেনশন সেন্টার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে তাদের।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান কাস্ত্রো বলেছেন, ‘লিয়াম এখন বাড়িতে। তার টুপি আর ব্যাকপ্যাকসহ।’ মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ও ‘আইসিই’র কট্টর সমালোচক ইলহান ওমরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে ভাইরাল হওয়া এক ছবিতে দেখা গেছে, লিয়ামকে মিনিয়াপোলিসের একটি এলাকা থেকে আইসিই কর্মকর্তারা তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। ওই সময় লিয়ামের মাথায় নীল রঙের হ্যাট ছিল, সঙ্গে একটি ব্যাকপ্যাক। এ ছবিটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া কঠোর অভিবাসননীতির প্রতীক হয়ে উঠেছে।
পিতা-পুত্রকে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে ডিটেনশন সেন্টারে তারা ছিলেন, তার বাইরে বিক্ষোভ হয়েছিল এবং বিষয়টি দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। তবে এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) দাবি করে, ‘আইসিই কোনো শিশুকে লক্ষ্য করে আটক করেনি।’
শনিবার আটকের পরিবারের আইনজীবীর করা জরুরি আবেদনের পর মার্কিন জেলা বিচারক ফ্রেড বায়েরি তাদের মুক্তির নির্দেশ দেন। রায়ে বিচারক বায়েরি এই আটকের ঘটনাকে ‘নিয়ন্ত্রণহীন ক্ষমতার প্রতি বিশ্বাসঘাতক লালসা’ দ্বারা পরিচালিত বলে কঠোর ভাষায় নিন্দা জানান।
সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারক বায়েরি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় বহিষ্কার প্রক্রিয়া বর্তমান ব্যবস্থার চেয়ে অনেক বেশি সুশৃঙ্খল ও মানবিক হওয়া উচিত।’
পিতা-পুত্র টেক্সাসে আটক থাকা অবস্থায় কাস্ত্রো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘পরিবার, সহপাঠী ও বাড়ি থেকে দূরে থাকায় ছোট শিশুটি মানসিকভাবে ভালো নেই।’
ডিএইচএস জানিয়েছে, তারা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। তবে পরিবারের আইনজীবীর দাবি, তারা আশ্রয়ের জন্য নির্ধারিত সব আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছেন।