২০২৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারির সেই অভিশপ্ত ভোর। প্রকৃতির এক নিদারুণ তাণ্ডবে যখন তছনছ হয়ে গিয়েছিল তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল, তখন উনজিলে চোলাক হারিয়েছিলেন তার কলিজার টুকরো আটজন স্বজনকে। ধুলোয় মিশে গিয়েছিল তার শৈশবের খেলার মাঠ, চেনা রাস্তা আর সাজানো সংসার। কিন্তু আজ, দুই বছর পর, সেই ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়েই এক নতুন ইতিহাস লিখছেন ৩০ বছর বয়সি এই উনজিলে।
শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে উনজিলে এখন নেতৃত্ব দিচ্ছেন তার নিজের শহর কাহরামানমারাস এবং প্রিয় এলাকা দোউখেন্ত পুনর্গঠনের বিশাল কর্মযজ্ঞে।
বর্তমানে রাষ্ট্রীয় রিয়েল এস্টেট কোম্পানি ‘এমলাক কনুত’-এর অধীনে এক বিশাল প্রকল্পের তদারকি করছেন উনজিলে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য কেবল ইমারত নির্মাণ নয়, বরং একটি আস্ত জনপদকে পুনরায় প্রাণদান করা।
নিজের কর্মক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে উনজিলে বলেন, আমি আমার পরিবারের আটজন সদস্যকে হারিয়েছি। যে মাটির নিচে আমার স্বজনদের স্মৃতি মিশে আছে, সেই মাটির ওপর দাঁড়িয়ে নতুন দোউখেন্ত গড়া—এটি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
একদিকে এটি যেমন বুক ফাটানো যন্ত্রণার, অন্যদিকে এটি আমার জন্য চরম গর্বের যে, আমি আমার শৈশবের রাস্তাগুলো নিজের হাতে আবার তৈরি করছি।
উনজিলের নকশায় এবার প্রাধান্য পাচ্ছে নিরাপত্তা এবং সামাজিক প্রাণবন্ততা। তিনি মনে করেন, একজন স্থপতি হিসেবে ধ্বংস হয়ে যাওয়া জনপদকে আবার প্রাণবন্ত করা তার নৈতিক দায়িত্ব।
তার নকশা করা প্রতিটি বাড়ি এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যেন ভবিষ্যতে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগই মানুষকে এমন অসহায় অবস্থায় না ফেলে।
তিনি বলেন, আমরা শুধু ইট-পাথরের দেয়াল তুলছি না, আমরা মানুষের জন্য একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ এবং প্রাণবন্ত সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করছি।
জানা যায়, তুরস্কের সেই প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পে কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন এবং গৃহহীন হয়েছিলেন লাখ লাখ মানুষ। আন্তর্জাতিক সাহায্যের পাশাপাশি উনজিলের মতো স্থানীয় স্থপতিদের এই আবেগপ্রসূত অংশগ্রহণ সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে আশার আলো সঞ্চার করছে। যারা ঘর হারিয়েছিলেন, তারা এখন স্বপ্ন দেখছেন এমন এক শহরের, যা গড়ে তুলছেন তাদেরই ঘরের সন্তানরা।