সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন

খাসোগি হত্যায় সৌদি যুবরাজকে ফাঁসাতে পারেন আমিরাতের শাসক

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যার কয়েক দিনের মধ্যে কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে একটি গোপন বার্তা-আদানপ্রদানের তথ্য মিলেছে। মার্কিন বিচার বিভাগের গত শুক্রবার প্রকাশিত ৩০ লাখ পৃষ্ঠার নতুন নথিতে এ তথ্য উঠে এসেছে।

নথিতে দেখা গেছে, এপস্টেইন এবং আনাস আল রশিদ নামে এক ব্যক্তির মধ্যে খাশোগি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কথোপকথন হয়েছে। খাশোগিকে ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে হত্যা করা হয়। তদন্তে মার্কিন গোয়েন্দারা উপসংহারে পৌঁছায়, যে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান হত্যাকাণ্ড অনুমোদন করেছিলেন।

নথিতে বলা হয়েছে, ১২ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে আল রশিদ খাশোগি হত্যাকাণ্ডকে ‘বীভৎস’ বলে বর্ণনা করেন। জেফ্রি এপস্টেইন তার জবাবে লেখেন, ‘আমার মনে হচ্ছে, এর পেছনে বড় কিছু আছে। এমবিজেড যদি তাকে ফাঁসিয়ে দিয়েছেন, তবে আমি অবাক হব না।’ এখানে এমবিজেড বলতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ানকে বোঝানো হয়েছে।

এপস্টেইন আরও বিস্তারিত জানতে চাইলে আল রশিদ লিখেন, ‘এ তথ্যগুলো খুব বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে ফাঁস করা হয়েছে… দ্রুত… খুব দ্রুত।’ তিনি সতর্ক করে উল্লেখ করেন, ‘এটি এখন গণমাধ্যম যুদ্ধ। সৌদিরা যদি নিজেদের রক্ষায় কাজ শুরু না করেন, তারা ট্রাম্পকে হারাচ্ছে। নিজের পক্ষে সাফাই দেওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো সত্য বলা, তা যত খারাপ হোক।’

নথিতে আরও দেখা যায়, খাশোগি হত্যাকাণ্ডের সময় একজন ব্যক্তি ফোনে ভিডিও রেকর্ড করেন, যা পরে হ্যাক করে তৃতীয় পক্ষের কাছে পৌঁছে। ফোনটি কে হ্যাক করেছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি।

২০১৮ সালের ১৩ অক্টোবর, এপস্টেইন খাশোগিকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করা যায় কি না এবং হত্যাকাণ্ডকে ‘ব্যর্থ গোপন অভিযান’ বা ‘ফাঁদ’ হিসেবে দেখানো যেতে পারে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একই সময়ে তিনি মোহাম্মদ বিন জায়েদের নাম বারবার উল্লেখ করেন এবং একটি ‘জরুরি’ বৈঠকের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

এছাড়া, এপস্টেইনের নথিতে মার্কিন ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে তার সম্পর্কের কথাও উঠে এসেছে। বলা হয়েছে, এপস্টেইন প্রাক্তন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাকের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং গুপ্তচর হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।

মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত নথিতে এপস্টেইনের পরিচিত দুনিয়ার বিখ্যাত ব্যক্তিদের নামও উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ধনকুবের ইলন মাস্ক, মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস, যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রু, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ট্রাম্পের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক।

এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ট্রান্সপারেন্সি আইনের আওতায় প্রকাশিত হয়েছে ৩০ লাখের বেশি পৃষ্ঠা, ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি এবং ২ হাজার ভিডিও।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102