শ্রীলঙ্কায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) শেষ চেষ্টাও ব্যর্থতার দিকে যাচ্ছে বলে দাবি ভারতীয় গণমাধ্যমের।
ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) স্বাধীন ডিসপিউট রেজোল্যুশন কমিটির (ডিআরসি) কাছে করা বিসিবির আবেদনটি আদৌ শুনানির পর্যায়েই নাও উঠতে পারে।
নিরাপত্তাজনিত কারণে সরকার ক্রিকেটারদের ভারত সফরে না পাঠানোর সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় বিসিবি আইসিসির দ্বারস্থ হয়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল—ভারতে নির্ধারিত বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর করা। তবে আইনি জটিলতায় সেই প্রচেষ্টা বড় ধাক্কা খাচ্ছে।
পিটিআই-এর তথ্য অনুযায়ী, আইসিসির সংবিধান ও ডিআরসির ‘টার্মস অব রেফারেন্স’-এর ১.৩ ধারা অনুযায়ী, আইসিসি বোর্ড অব ডিরেক্টরসের কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শোনার এখতিয়ার ডিআরসির নেই। ফলে বিসিবির আবেদনটি আইনি কাঠামোর মধ্যেই আটকে যাচ্ছে।
এর আগে আইসিসি বোর্ডে ভোটাভুটিতে ১৪-২ ব্যবধানে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতেই আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়নে ঝুঁকির মাত্রা ‘কম থেকে মাঝারি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা বিসিবির নিরাপত্তা-সংক্রান্ত দাবিকে দুর্বল করছে।
আইসিসি সূত্রে জানা গেছে, বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের ভূমিকা নিয়ে বোর্ডের একাধিক সদস্য অসন্তুষ্ট। আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানোর আগেই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিসিবির অবস্থান প্রকাশ করাকে নেতিবাচকভাবে দেখছে আইসিসি।
বর্তমানে আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শনিবারের মধ্যেই বাংলাদেশের পরিবর্তে কোন দল (সম্ভাব্য স্কটল্যান্ড) টুর্নামেন্টে অংশ নেবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
বিসিবির সামনে কী পথ খোলা?
ডিআরসি যদি আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন খারিজ করে দেয়, তবে বিসিবির সামনে থাকবে দুটি সীমিত বিকল্প— ১. কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টস : সুইজারল্যান্ডভিত্তিক এই সর্বোচ্চ ক্রীড়া আদালতে শেষবারের মতো আইনি লড়াই।
২. আইসিসির সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া: অথবা টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার, যার ফলে বড় অঙ্কের জরিমানা কিংবা নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এর আগে, ২০১৮ সালে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ভারতের বিরুদ্ধে প্রায় ৭ কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি করেও এই ডিআরসিতেই হেরে যায়। সে সময়ও ডিআরসি স্পষ্ট করে জানায়, তারা কোনো আপিল ট্রাইব্যুনাল নয়; কেবল নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সেটিই তারা বিবেচনা করে।