সদ্য সমাপ্ত আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মাঠের লড়াই ছাপিয়ে এখন তুঙ্গে লজিস্টিক বিতর্ক। টুর্নামেন্ট শেষে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর দেশে ফেরা নিয়ে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলা এবং নির্দিষ্ট কিছু দলকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে বিদ্ধ হচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।
মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও আকাশপথের সীমাবদ্ধতার কারণে বেশ কয়েকটি দল ভারতে আটকা পড়ায় এই সংকটের সূত্রপাত।
গত রবিবার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ভারত বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের সফল সমাপ্তি ঘটলেও, বিদায়ী দলগুলোর বিদায়বেলা মোটেও সুখকর ছিল না।
বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল ভারত ছাড়তে কয়েক দিন বিলম্বের শিকার হওয়ায় বৈষম্যের প্রশ্ন উঠেছে।
জানা যায়, ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল তাদের শেষ ম্যাচ খেলেছিল গত ১ মার্চ। কিন্তু ক্যারিবিয়ান এই স্কোয়াডটি প্রায় এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ভারতে অবস্থান করতে বাধ্য হয়।
ফ্লাইট প্রাপ্যতা এবং নিরাপদ আকাশপথের করিডোর নিশ্চিত না হওয়ায় তারা সময়মতো যাত্রা করতে পারেনি। একই সংকটে পড়ে প্রোটিয়ারাও। ৪ মার্চ নিউজিল্যান্ডের কাছে সেমিফাইনালে হেরে বিদায় নেওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা দল গত কয়েক দিন ধরে কলকাতার একটি হোটেলে আটকা পড়ে ছিল।
বিতর্কের মূল সূত্রপাত ঘটে যখন দেখা যায়, ৫ মার্চ ভারতের কাছে সেমিফাইনালে হারা ইংল্যান্ড দল খুব দ্রুতই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সুযোগ পেয়েছে। প্রোটিয়া ও ক্যারিবিয়ানরা যখন অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছিল, তখন ইংল্যান্ডের দ্রুত প্রস্থান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় তোলে।
সাবেক ক্রিকেটার ও ভক্তরা প্রশ্ন তোলেন, বড় দল বা প্রভাবশালী বোর্ড হিসেবে কি ইংল্যান্ডকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে?
সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক মাইকেল ভন এই ঘটনায় আইসিসির কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন তোলেন, কেন সব দলের ক্ষেত্রে একই নিয়ম মানা হচ্ছে না।
দক্ষিণ আফ্রিকার তারকা ক্রিকেটার ডেভিড মিলার এবং কুইন্টন ডি কক সরাসরি আইসিসির ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেন, প্রোটিয়ারা যখন ফ্লাইটের অপেক্ষায় বসে আছে, তখন ইংল্যান্ড কীভাবে এত দ্রুত চার্টার্ড ফ্লাইটের সুবিধা পেল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোচ ড্যারেন সামিও এক সপ্তাহের অনিশ্চয়তাকে অনভিপ্রেত বলে অভিহিত করেছেন।
নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে আইসিসি এক বিবৃতিতে সব ধরনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। আইসিসির মুখপাত্রের মতে, দলগুলোর ফেরার সময়সূচী নির্ধারিত হয়েছে সম্পূর্ণভাবে নিরাপত্তা এবং অপারেশনাল পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে। আকাশপথের অনুমতি, ভিসা লজিস্টিক এবং বিমানের সহজলভ্যতাই ছিল মূল বিষয়।
আইসিসি আরও জানায়, ইংল্যান্ডের ফেরার পথ ছিল মুম্বাই থেকে উত্তর আফ্রিকা ও মিশরের ওপর দিয়ে, যা বর্তমানে নিরাপদ ও সচল রয়েছে।
অন্যদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ বা দক্ষিণ আফ্রিকার ফ্লাইটের জন্য সাধারণত দুবাই বা দোহার মতো মধ্যপ্রাচ্যের ট্রানজিট ব্যবহার করতে হয়। বর্তমানে ঐ অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা ও সামরিক উত্তেজনার কারণে আকাশপথ সীমিত থাকায় এই জটিলতা তৈরি হয়েছে।