শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ন

বিশ্বকাপে রেফারির দুই কানে আলাদা দুই গিয়ারের কাজ কী?

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬

২০২৬ সালের বিশ্বকাপ যেমন সবচেয়ে বড় আয়োজন হতে যাচ্ছে, তেমনই এই আসরে যুক্ত হয়েছে একাধিক আধুনিক প্রযুক্তি। সব মিলিয়ে এটিকে একেবারে হাইটেক বিশ্বকাপে রূপ দিয়েছে ফিফা। খেলার সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যুক্ত করে এই বিশ্বকাপকে দিয়েছে নতুন মাত্রা। তারই ঝলক দেখা গেছে উদ্বোধনী দিনেই।

উদ্বোধনের প্রথম দুই ম্যাচে রেফারিদের মাথায় দেখা যায় বিশেষ ধরনের একটি গিয়ার, যেখানে মাইক্রোফোন ও ইয়ারপিসের সঙ্গে যুক্ত ছিল নতুন প্রযুক্তি। এই বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো এটি ব্যবহার করা হচ্ছে।

ম্যাচ পরিচালনায় রেফারিদের প্রযুক্তি

আধুনিক ফুটবলে রেফারিদের যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান অংশ হলো মাইক্রোফোন ও ইয়ারপিস। মাইক্রোফোনের মাধ্যমে প্রধান রেফারি তার সহকারী রেফারি, চতুর্থ কর্মকর্তা (ফোর্থ অফিশিয়াল) এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভার)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

অন্যদিকে ইয়ারপিসের মাধ্যমে মাঠের বাইরে থাকা কর্মকর্তাদের নির্দেশনা ও পরামর্শ শোনা যায়।

কী এই ‘রেফ-ক্যাম’?

এই বিশ্বকাপে যুক্ত হয়েছে আরও একটি অত্যাধুনিক ডিভাইস-‘রেফ-ক্যাম’। রেফ-ক্যাম হলো একটি ছোট হাই-রেজল্যুশন ক্যামেরা, যা রেফারির মাথায় সংযুক্ত থাকে। এর মাধ্যমে ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্ত রেফারির দৃষ্টিকোণ থেকে রেকর্ড করা হয়।

ক্যামেরাটির অবস্থান এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়, যাতে এর অ্যাঙ্গেল রেফারির চোখের দৃষ্টির সঙ্গে মিল থাকে। বিশ্বকাপের মোট ১০৪টি ম্যাচেই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিফা।

শুধু রেকর্ডিং নয়, রেফ-ক্যামের ভিডিও সরাসরি সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও ব্যবহার করতে পারবে। ফলে দর্শকরা মাঠের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো রেফারির চোখে দেখা দৃশ্য হিসেবে উপভোগ করতে পারবেন, যা ম্যাচ দেখার অভিজ্ঞতাকে আরও বাস্তবসম্মত করে তুলবে।

ভিডিওর মান উন্নয়নে

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেফ-ক্যাম প্রযুক্তির প্রযুক্তিগত সহায়তার দায়িত্ব পেয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান লেনোভো। রেফারিকে যেহেতু প্রতিনিয়ত দৌড়াতে হয়, তাই ক্যামেরার ফুটেজে অনেক সময় নড়াচড়াজনিত ঝাঁকুনি দেখা যায়। এটি কমানোর জন্য বিশেষ স্থিতিশীলতা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

এর ফলে ক্যামেরা থেকে পাওয়া ফুটেজ হবে আরও স্থির, পরিষ্কার এবং উচ্চমানের। ফিফার আশা, এই নতুন প্রযুক্তি বিশ্বকাপ সম্প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং দর্শকদের সামনে ম্যাচের একেবারে ভিন্ন ও বাস্তবসম্মত অভিজ্ঞতা তুলে ধরবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102