হঠাৎ ঝড়ো হাওয়ায় উড়ে গেল টিনের ছাউনি, ভেঙে পড়েছে একাধিক ঘর। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিপাকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো, রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম সাজেক ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে হঠাৎ করে আঘাত হানা ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির তাণ্ডবে অন্তত ১৯টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রবল বাতাসে অনেক বসতঘরের টিনের ছাউনি উড়ে গেছে, আবার কোথাও কোথাও ঘরের বেড়া ও কাঠামো ভেঙে পড়ে বসতঘর বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলের দিকে সাজেক অঞ্চলের আকাশে হঠাৎ করে কালো মেঘ জমে ওঠে। কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় তীব্র ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি। পাহাড়ি এলাকায় ঝড়ের গতি এতটাই তীব্র ছিল যে কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিভিন্ন পাড়ার একাধিক ঘরের টিনের ছাউনি উড়ে যায়। অনেক বসতঘর আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা নলেন কান্তি ত্রিপুরা জানান, বিকেলের দিকে হঠাৎ করেই প্রচণ্ড ঝড় শুরু হয়। প্রবল বাতাসের তোড়ে অনেক ঘরের টিন ছিটকে পড়ে এবং কিছু ঘর মুহূর্তেই ভেঙে যায়। অনেক পরিবার তখন ঘরের ভেতরেই অবস্থান করছিল। তারা আতঙ্কের মধ্যে ঘর থেকে বের হয়ে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
তথ্যসূত্র জানা গেছে, সাজেক ইউনিয়নের বেটলিং পাড়ায় ৭টি পরিবার, নিউ থাং নাং পাড়ায় ৩টি পরিবার এবং তারুং পাড়ায় ৬টি পরিবার ঝড়ের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ত্রিপুরা পাড়ায় আরও ৩টি পরিবারের বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে করে মোট অন্তত ১৯টি পরিবার ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনেকের ঘরের টিনের ছাউনি উড়ে গেছে, কোথাও আবার ঘরের কাঠের খুঁটি ভেঙে পড়েছে। ফলে এসব ঘর এখন বসবাসের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার জরুরি ভিত্তিতে ঘর মেরামতের চেষ্টা করলেও আর্থিক সংকটের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে সাজেক ইউনিয়নের শান্তি পাড়া ও জুপুই পাড়া বর্তমানে মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থাকায় ওই এলাকাগুলোর ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের ধারণা, ওই এলাকাগুলোতেও ঝড়ের কারণে ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে।
সাজেক ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মন্টু কুমার ত্রিপুরা বলেন, হঠাৎ ঝড়ো হাওয়ার কারণে কয়েকটি পাড়ায় বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কিছু এলাকা নেটওয়ার্কের বাইরে থাকায় সেসব স্থানের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সব তথ্য সংগ্রহ করে প্রশাসনকে জানানো হবে।
তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনেকেই নিম্নআয়ের মানুষ। তাদের পক্ষে নিজ উদ্যোগে দ্রুত ঘর মেরামত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সহায়তা প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় বসবাসকারী এসব পরিবারের জীবনযাপন অনেকটাই কষ্টসাধ্য। ঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে তাদের ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়িয়ে দেয়। তাই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ ও সহায়তা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমেনা মারজান বলেন, সাজেক ইউনিয়নে ঝড়ের কারণে কিছু পরিবারের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রশাসনের সহায়তা ও মানবিক সহযোগিতা পেলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে। পাশাপাশি পাহাড়ি অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় টেকসই ঘর নির্মাণ ও আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।