বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ন

সিনেমার হারানো ঐতিহ্য ফেরাতে লাহোরে নির্মিত হচ্ছে আধুনিক ‘ফিল্ম সিটি’

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

পাঞ্জাবের চলচ্চিত্র শিল্পকে বিশ্বদরবারে নতুন করে পরিচিত করতে এবং হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারে বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ। লাহোরে ৫০ একর জমির ওপর একটি অত্যাধুনিক ‘ফিল্ম সিটি’ নির্মাণের মাধ্যমে পাকিস্তানের বিনোদন জগতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।

পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মেগা প্রকল্পের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, প্রায় দুই বছর আগে এই পরিকল্পনার বীজ বপন করা হয়েছিল। এরপর চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট নির্মাতা, প্রযোজক ও কলাকুশলীদের সাথে দফায় দফায় আলোচনার পর অবশেষে প্রকল্পটি চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে।

প্রকল্পের মূল আকর্ষণ ও সুবিধাসমূহ
এই ফিল্ম সিটিটি কেবল শুটিং স্পট নয়, বরং এটি হতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান সৃজনশীল হাব। এখানে যা যা থাকছে:

উন্নত প্রযুক্তি: আন্তর্জাতিক মানের স্টুডিও, সাউন্ড স্টেজ এবং অত্যাধুনিক VFX ও পোস্ট-প্রোডাকশন ল্যাব।

প্রশিক্ষণ কেন্দ্র: নতুন প্রজন্মের মেধা বিকাশে একটি বিশেষায়িত চলচ্চিত্র ও সংগীত বিদ্যালয়।

শুটিং অবকাঠামো: একাধিক ব্যাকলট, বিশাল কেন্দ্রীয় লেক এবং চিত্রায়নের জন্য স্থায়ী বিভিন্ন সেট।

বাণিজ্যিক সুবিধা: বড় ইভেন্টের জন্য কনভেনশন হল এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইন্টিগ্রেটেড ট্রেড সেন্টার। “পাঞ্জাব ফিল্ম সিটি বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় প্রতিভাদের বৈশ্বিক মানে উন্নীত করবে। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়, বরং হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান ও সৃজনশীলতার বৈশ্বিক কেন্দ্র হবে।”  মরিয়ম নওয়াজ, মুখ্যমন্ত্রী, পাঞ্জাব।

অর্থায়ন ও অনুদান: ২০০ কোটি রুপির বিশেষ তহবিল
পাঞ্জাবের তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আজমা বুখারি এই পুনর্জাগরণ প্রকল্পের আর্থিক রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি জানান: চলচ্চিত্র অনুদান: চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য মোট ২০০ কোটি রুপি বরাদ্দ করা হয়েছে।

প্রথম ধাপ: প্রাথমিকভাবে ৩২ জন নির্বাচিত নির্মাতাকে ৩ কোটি রুপি করে অনুদান দেওয়া হবে। চিত্রনাট্য অনুমোদনের পর অর্ধেক এবং কাজ শেষ হলে বাকি অর্থ প্রদান করা হবে।

তরুণদের জন্য সুযোগ: মেধাবী পাঁচজন তরুণ নির্মাতার জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ পৃথক তহবিল। আগামী জুন মাস থেকে দ্বিতীয় পর্যায়ের আবেদন গ্রহণ শুরু হবে।

পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী সিনেমা হল
শিল্পের প্রসারে কেবল নির্মাণ নয়, প্রদর্শনীতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পরিচালন ব্যয় কমিয়ে হল মালিকদের স্বস্তি দিতে সিনেমা হলগুলোকে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এই সমন্বিত উদ্যোগের লক্ষ্য হলো পাঞ্জাবকে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং ঐতিহ্যের একটি বৈশ্বিক গন্তব্যে রূপান্তর করা। এই প্রকল্পটি বর্তমান তরুণ প্রজন্ম ও শিল্পীদের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর একটি বিশেষ উপহার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102