ক্রিকেটারদের বয়কটের কারণে আজ বিপিএলের দ্বিতীয় ম্যাচও অনুষ্ঠিত হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিপিএল স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরেই বিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে খেলায়াড়রা যদি মাঠে না নামে তাহলে বিপিএল স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
এর আগে, বিতর্কিত পরিচালক এম নাজমুল ইসলামকে অর্থ কমিটির চেয়ারম্যানসহ সব ধরনের কার্যক্রম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
বিসিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি পর্যালোচনা করে এবং বোর্ডের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সভাপতি তাৎক্ষণিকভাবে এম নাজমুল ইসলামকে অর্থ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিসিবি গঠনতন্ত্রের ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সভাপতির ওপর অর্পিত ক্ষমতাবলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য বোর্ডের দাপ্তরিক কার্যক্রমের সুষ্ঠু ও কার্যকর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সভাপতি নিজেই অর্থ কমিটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
বিসিবি জানায়, ক্রিকেটারদের স্বার্থ রক্ষা করাই বোর্ডের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বোর্ডের অধীনে থাকা সকল ক্রিকেটারের সম্মান ও মর্যাদা সমুন্নত রাখতে বিসিবি পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নের স্বার্থে ক্রিকেটারদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
এর আগে গতকাল ক্রিকেটারদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন এম নাজমুল ইসলাম। তারও আগে বিশ্বকাপ ইস্যুতে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে ‘ভারতীয় দালাল’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এসব ঘটনার জেরে নাজমুল বিসিবি পরিচালক পদ থেকে সরে না দাঁড়ালে খেলা বন্ধের হুঁশিয়ারি দেয় ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব।
সেই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়ে বিপিএলে। আজ মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিপিএলের দিনের প্রথম ও দ্বিতীয় ম্যাচ মাঠে গড়ায়নি।
দুপুরে রাজধানীর এক হোটেলে কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন বলেন, ক্রিকেটাররা মাঠে ফিরবেন একটি শর্তে—বিসিবি যদি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত প্রতিশ্রুতি দেয় যে এম নাজমুল ইসলাম আর বোর্ডে থাকছেন না।
তবে বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কোনো পরিচালককে সরাসরি তার পরিচালক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুযোগ নেই, যদি না তিনি নিজে পদত্যাগ করেন। কেবল মৃত্যু, মানসিক ভারসাম্য হারানো, শৃঙ্খলাজনিত শাস্তি, দেউলিয়া ঘোষণা বা পরপর তিনটি বোর্ড সভায় অনুপস্থিত থাকলে পরিচালক পদ শূন্য ঘোষণা করা যেতে পারে।