বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৩০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
৯৩ আসনে ট্রাক প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে গণঅধিকার পরিষদ জাতিসংঘ সংস্থার সদর দপ্তর গুঁড়িয়ে দিল ইসরায়েল বিএনপিতে যোগ দিলেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী প্রস্তাবিত ২০ গ্রেডের নতুন সরকারি বেতন স্কেল দেখে নিন ইবির দুর্নীতি ও অনিয়মের পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপির ৫৯ নেতাকে বহিষ্কার দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ২৩ বছরের কারাদণ্ড নির্বাচন ও নিরাপত্তা নিয়ে সেনাপ্রধানের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা প্রধান উপদেষ্টার কাছে ‘নবম জাতীয় বেতন কমিশন’ প্রতিবেদন পেশ বরিশালে চূড়ান্ত লড়াইয়ে ৩৬ প্রার্থী, পেলেন প্রতীক বরাদ্দ

যে প্রক্রিয়ায় করতে পারবেন দ্বিতীয় বিয়ে

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১১ জানুয়ারী, ২০২৬

বাংলাদেশের হাইকোর্ট মুসলিম পুরুষদের দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক নয়—এমন একটি সুস্পষ্ট রায় দিয়েছেন। আদালতের ২৪ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, দ্বিতীয় বিয়ার অনুমোদন স্ত্রীর নয়, বরং সংশ্লিষ্ট আরবিট্রেশন কাউন্সিলের এখতিয়ারভুক্ত।

হাইকোর্টের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মুসলিম পারিবারিক আইন, ১৯৬১ অনুযায়ী দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে পুরুষের উচিত সংশ্লিষ্ট আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতি নেওয়া। তবে প্রথম স্ত্রীর সম্মতি বাধ্যতামূলক নয়। আদালত জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও প্রশাসনিকভাবে প্রচলিত ধারণা—‘স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে অবৈধ’—আইনের সরাসরি ব্যাখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

আদালতের রায়ে আরও বলা হয়েছে, ‘দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা যেহেতু আরবিট্রেশন কাউন্সিলের হাতে ন্যস্ত, সেহেতু স্ত্রী অনুমতি না দিলেও বিয়ে অবৈধ হবে—এমন ব্যাখ্যা আইনগত কাঠামোর বাইরে গিয়ে তৈরি হয়েছে। কাউন্সিল দুই পক্ষের বক্তব্য, আর্থিক সক্ষমতা ও পারিবারিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। এটাই আইনানুগ এবং নৈতিক উদ্দেশ্য।’

আইনগত দিক বিবেচনায় আদালত ব্যাখ্যা করেছেন, দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪৯৪ ধারা অনুযায়ী দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও, মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ কার্যকর হওয়ার পর পুরুষদের জন্য কঠোরতা শিথিল হয়েছে। অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে এক বছরের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান এখনও প্রযোজ্য।

হাইকোর্টের রায়কে নিয়ে এখনো বিতর্ক রয়েছে। রিটকারীরা ইতিমধ্যে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের দাবি, এই রায়ের ফলে বহুবিবাহের ক্ষেত্রে নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হতে পারে। তারা চান নারী ও পুরুষ উভয়ের সমান অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা হোক।

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করাচ্ছেন, এই রায় সামাজিক এবং আইনি উভয় দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ এটি বাংলাদেশে বহুবিবাহ এবং দ্বিতীয় বিয়ার ক্ষেত্রে আইনি নির্দিষ্টতা স্পষ্ট করছে, এবং একই সঙ্গে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই বিয়ের বৈধতা নিশ্চিত করছে।

সামাজিক ও প্রশাসনিকভাবে বহু বছর ধরে প্রচলিত ধারণা এখন আইনগত ব্যাখ্যার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। এর ফলে পরিবারিক ও সামাজিক জীবনে দ্বিতীয় বিয়ার প্রক্রিয়া আরও সুসংহত এবং আইনসম্মত হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102