মুসলমানদের সবচেয়ে বড় দুটি উৎসব হলো ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা—আনন্দ, কৃতজ্ঞতা ও ইবাদতের এক বিশেষ মুহূর্ত। আল্লাহর জিকির ও তাঁর বড়ত্বের ঘোষণার মাধ্যমে শুরু হয় ঈদ। এ দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলোর একটি হলো ঈদের নামাজ। এটি সাধারণত খোলা মাঠে তথা ঈদগাহে পড়া হয়। তবে এরূপ স্থানের অভাবে বা আপৎকালে মাসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করা যায়।
হানাফি মাজহাব অনুযায়ী ঈদের নামাজ ওয়াজিব। তবে শাফেয়ী, মালিকী ও হাম্বলী মাজহাব অনুযায়ী এটি সুন্নতে মুয়াক্কাদা বা ফরজে কিফায়া। এটি দুই রাকাআত, কোনো আজান-ইকামাত ছাড়া, এবং এত অতিরিক্ত ছয় তকবির পড়তে হয়।
অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, ঈদের নামাজ কি সবার ওপরই ওয়াজিব, নাকি নির্দিষ্ট কিছু মানুষের ওপর? ইসলামি শরিয়তের আলোচনায় এ বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। ঈদুল আজহার বিষয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন-
إِنّ أَوّلَ مَا نَبْدَأُ بِهِ فِي يَوْمِنَا هَذَا أَنْ نُصَلِّيَ، ثُمّ نَرْجِعَ، فَنَنْحَرَ…
আজকের দিনে আমরা সর্বপ্রথম ঈদের নামাজ আদায় করব। এরপর কুরবানি করব…। —সহিহ বুখারি, হাদিস ৯৬৮
ফিকহের কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে, কোন মুসলমানের ওপর ঈদের নামাজ ওয়াজিব এবং কারা এ বিধানের আওতার বাইরে থাকবেন। সেই আলোচনাই সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
শরিয়তের ভাষ্যমতে, যাদের ওপর জুমার নামাজ ফরজ, তাদের ওপর ঈদের নামাজ ওয়াজিব। অর্থাৎ, প্রাপ্ত বয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন, যেসকল মুসলিম পুরুষ জামাতে উপস্থিত হয়ে ঈদের নামাজ আদায়ের সক্ষমতা রাখে, তাদেরকে ঈদের নামাজ পড়তে হবে। (আলমুহীতুল বুরহানী : ২/৪৭৬, বাদায়েউস সানায়ে : ১/৬১৭, শরহুল মুনইয়া : পৃ. ৫৬৫)
১. মহিলাদের ওপর ঈদের নামাজ ওয়াজিব নয়। অনুরূপ এমন অসুস্থ পুরুষ, যে ঈদগাহে উপস্থিত হয়ে ঈদের নামাজ আদায়ের সক্ষমতা রাখে না, তার ওপরও ঈদের নামাজ ওয়াজিব নয়। (কিতাবুল আছল : ১/৩২৩, মাবসূত-সারাখসী : ২/৪০, আলমুহীতুল বুরহানী : ২/৪৮৫, বাদায়েউস সানায়ে : ১/৬১৭)
২. মুসাফির তথা যে ৪৮ মাইল বা ৭৮ কি. মি. দূরত্বে যাওয়ার উদ্দেশে নিজ এলাকা ত্যাগ করেছে, এমন ব্যক্তির ওপর ঈদের নামাজ ওয়াজিব নয়। তবে সে যদি ঈদের নামাজ পড়ে, তাহলে তা সহিহ হবে এবং এর সওয়াবও পাবে। (আততাজরীদ-কুদুরী : ২/৯৮১, বাদায়েউস সানায়ে : ১/৬১৭, আযযাখীরাতুল বুরহানিয়া : ২/৩৯৬)
এ ছাড়া হজের সফরে থাকা লোকদের জন্য ঈদুল আজহার নামাজের বিধান নেই। (আজযাখিরাতুল বুরহানিয়া : ২/৩৯৪)
ঈদের নামাজের ওয়াক্ত
ঈদের নামাযজর ওয়াক্ত হচ্ছে, সূর্য উদিত হয়ে (নামাজের) নিষিদ্ধ সময় শেষ হওয়ার পর থেকে শুরু করে যাওয়াল তথা সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ার আগ পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যেই ঈদের নামাজ পড়তে হবে। যাওয়ালের পর আর ঈদের নামাজ সহিহ হবে না। -সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ১১৩৫; আননুতাফ ফিল ফাতাওয়া, পৃ. ৬৫; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪৭৭; বাদায়েউস সানায়ে ১/৬১৯
ঈদের নামাজ ছুটে গেলে
মাসআলা : ঈদের নামাযজ কাজার বিধান নেই। তাই কারো ঈদের নামাজ ছুটে গেলে তিনি আশপাশের অন্য কোনো ঈদের জামাতে শরিক হওয়ার চেষ্টা করবে। এমনটি সম্ভব না হলে তওবা-ইস্তেগফার করবেন। -শরহু মুখতাসারিত তাহাবী ২/১৬১; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪৯৮; আলহাবীল কুদসী ১/২৪৪