শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:০৬ পূর্বাহ্ন

জোরপূর্বক ক্রয়কৃত জমির গাছ কাটার প্রতিবাদে চুলকাটি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

মোঃ তরিকুল মোল্লা,(ফকিরহাট, বাগেরহাট সদর) প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার অর্ন্তগত ৪৬ নং নওয়াপাড়া এলাকায় প্রভাবশালী মকছেদ গং বাহিনী কতৃক ক্রয়কৃত জমির গাছ গাছালি কেটে নিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে চুলকাটি প্রেসক্লাবের হলরুমে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ভুক্তভোগী পরিবার।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোঃ হুমায়ুন কবির। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ইং ২০১৯ সালের ২০ মে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার অর্ন্তগত ৪৬ নং নওয়াপাড়া মৌজার এস এ-১২৬, আর এস-৩৩১ দাগের মধ্যে ০.০৬৩৩ একর জমি ৩ লক্ষ ১৬ হাজার ৫ শত টাকা ধার্যকৃত মূল্যে ক্রয় করার জন্য ২ লক্ষ ৬৬ হাজার ৫ শত টাকা বায়না দিই এবং বাকি ৫০ হাজার টাকা পরবর্তীতে দেওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু এই টাকা পরিশোধ করার পর তিনি বলেন, আমাকে জমির দাম বাবদ আরো বেশি টাকা দিতে হবে। তার কথা মত আমরা ধার দেনা করে এবং লোন নিয়ে বাধ্য হয়ে জমি নেওয়ার জন্য অতিরিক্ত ১ লক্ষ ৮৩ হাজার ৫ শত টাকা দিয়ে বায়না রেজিস্ট্রি করি এছাড়াও রেজিস্ট্রি বাবদ আরো ৩৫ হাজার টাকা দিই। এরপর দলিল করে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন অজুহাতে আমাদের কাছ থেকে জমি বাবদ সর্বমোট সাত লক্ষ টাকা নিয়েছেন। অবশেষে মকছেদ শেখ ২০২০ সালের ২১ জুলাই স্ব-জ্ঞানে ফকিরহাট রেজিস্ট্রি অফিসে হাজির হয়ে দলিলে স্বাক্ষর করে সেখান থেকে তিনি পলায়ন করেন। আমরা দলিল না করতে পেরে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হই।

পরবর্তীতে আমাদের ক্রয়কৃত জমি ফিরে পেতে ২০২১ সালের ২৯ এপ্রিল ফকিরহাট সহকারী জজ আদালত বরাবর একটি মামলা দায়ের করি। যার নং-১২৯। মামলাটি দীর্ঘ কয়েক বছর যাবত চলমান থাকার পর ২০২৪ সালের ২৩ এপ্রিল আদালত আমাদের পক্ষে রায় প্রদান করেন। যাহার আদেশ নং-২৯। আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ দাতার পক্ষে ফকিরহাট সহকারী জজ আমাদেরকে কবলা দলিল প্রদান করেন।

আমরা ২০২৫ সালের ৪ জুলাই আমিন নিয়ে জমি মেপে সীমানা নির্ধারণ করি। তখন মকছেদ গং বাহিনী বিভিন্ন প্রকার ভয় ভীতি’সহ জীবননাশের হুমকি দেন। আমি ছুটি নিয়ে বাড়ি এসে গত ২২ ডিসেম্বর সকালে জমিতে গিয়ে দেখি আমার জমির সব ধরনের গাছ গাছালি কেটে নিয়ে গেছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ লক্ষ টাকা। আমাদের জমিতে তারা একটি গাছও অবশিষ্ট রাখে নাই। আমরা স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারি আলতাফ শেখের ছোট ছেলে মাহমুদ কয়েকজন অজ্ঞাত লোকজন নিয়ে গাছগুলো কেটে ফেলেছে।

এ বিষয়ে আমি ফকিরহাট মডেল থানায় একটি জিডি করতে গিয়েছিলাম কিন্তু মকছেদ গং বাহিনী অতন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয়রা তাদের বিরুদ্ধে স্বাক্ষী দেওয়ার সাহস না পাওয়াই স্বাক্ষীর অভাবে আমি থানা থেকে ফিরে আসি।

তিনি যাতে তার ক্রয়কৃত জমি সুষ্ঠুভাবে ভোগ দখল করতে পারেন এবং তার কেটে ফেলা গাছের ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন এ ব্যাপারে তিনি প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102