নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাত্র সাড়ে ৫ মাসে কোরআন মুখস্থ করে হাফেজ হয়েছেন নয় বছরের মো. আব্দুল্লাহ। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাতে আব্দুল্লাহকে মাদ্রাসার মাহফিলে পাগড়ি দিয়ে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
গত ২০ ডিসেম্বর তার হিফজুল কোরআনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। আব্দুল্লাহ ফতুল্লার বাংলাদেশ খাঁদ এলাকার ফয়জিয়া মুহম্মাদিয়া দারুস সালাম কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং পোশাক শিল্প শ্রমিক আব্দুল মজিদের ছেলে।
আব্দুল্লাহকে চলতি বছরের ১৪ জুন স্থানীয় ফয়জিয়া মুহম্মাদিয়া দারুস সালাম কওমি মাদ্রাসায় হিফয শাখায় ভর্তি করায় তার বাবা। মাত্র সাড়ে ৫ মাসে তিনি পবিত্র কোরআনের ৩০ পাড়া মুখস্থ করেছেন, যা মাদ্রাসার শিক্ষক ও এলাকার সবাইকে অবাক করেছে।আব্দুল্লাহ বলেন, ‘এতো অল্প সময়ে হাফেজ হতে পেরে আমার খুব ভালো লাগছে। প্রথমে ভাবছিলাম এটি অনেক কঠিন হবে, কিন্তু আল্লাহ আমাকে সহজ করে দিয়েছেন।’
জাতীয় যুবশক্তি (এনসিপি) নারায়ণগঞ্জ জেলার সংগঠক সোহাইল ইসলাম ইফতি বলেন, ‘আব্দুল্লাহ খুবই মেধাবী শিক্ষার্থী। মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মামুন সাহেবের অধীনে মাত্র ৬ মাসে হাফেজ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। এত দ্রুত কোরআন মুখস্থ হওয়ায় আমরা সবাই অবাক হয়েছি। আশা করি ভবিষ্যতে সে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে।’
আব্দুল্লাহর বাবা আব্দুল মজিদ বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমি চাইতাম আমার ছেলেকে আল্লাহর পথে নামাজ ও কোরআনের শিক্ষায় শিক্ষিত করি। আল্লাহর কৃপায় আব্দুল্লাহ এতো অল্প বয়সে পুরো কোরআন মুখস্থ করতে পেরেছে। এটি তার জীবনের সবচেয়ে বড় সুখের মুহূর্ত। আমি একজন পিতা হিসেবে গর্বিত।’
ফয়জিয়া মুহম্মাদিয়া দারুস সালাম কওমি মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষা সচিব মুফতি আব্দুর রহমান বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থীকে সাধারণত হাফেজ হতে অন্তত তিন বছর সময় লাগে। তবে আব্দুল্লাহ অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী। নিয়মিত অধ্যবসায়, সময়ানুবর্তিতা এবং কোরআনের প্রতি ভালোবাসার কারণে সে এত দ্রুত হিফজ সম্পন্ন করতে পেরেছে।’তিনি আরও বলেন, ‘এটি আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত। আমাদের মাদ্রাসায় এর আগে ২০১০ সালে সাইদুল ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থী ৯ মাসে হিফজ সম্পন্ন করেছিলেন। আমি আব্দুল্লাহর জন্য দোয়া করি, আল্লাহ তাকে একজন মানুষকুল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলুন।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুফতি আলাউদ্দিন সাহেব, মাওলানা জুবায়ের, মুফতি আব্দুর রহমান, মুফতি সাইদুল ইসলাম, হাফেজ মামুন, হাফেজ সাইদুল ইসলাম, আব্দুর রউফ, মো. সজিব, মো. মজিবুর রহমানসহ মাদ্রাসার অন্যান্য কমিটি সদস্যরা।