বায়াস প্রশাসন দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘প্রশাসন ও পুলিশকে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখতে হবে।’
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে ফেনী শহরের কিং অব কমিউনিটি সেন্টারে গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটের আয়োজিত বিপ্লবী শরিফ ওসমান হাদি হত্যার প্রতিবাদে শোক ও সংহতি সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ ।
তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট ফেনীতে এসেছে সংস্কারের বার্তা নিয়ে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শহীদ শরিফ ওসমান হাদি ভাইয়ের হত্যা নিয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।’
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘এই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবসময় পরবর্তীতে কে ক্ষমতায় আসতে পারে বা কে ক্ষমতায় আসছে, তার পা চাটা শুরু করে। তারা আবার গুলশান ও পল্টনে লাইন দেওয়া শুরু করেছে।’তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষিত নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। নির্বাচনে আম্পায়ারের ভূমিকায় থাকে প্রশাসন ও পুলিশ। গত নির্বাচনগুলোতে আমরা প্রশাসনকে খেলোয়াড়ের ভূমিকায় দেখেছি, যার খেসারত আজও আমাদের দিতে হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনকে বলব, আপনারা বেনজির হইয়েন না, আপনারা হারুন হইয়েন না।’
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘লটারির মাধ্যমে মধ্যরাতে ডিসি ও এসপি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মধ্যরাতে যারা ডিসি-এসপি হয়েছেন, আমরা তাদের আচরণকে সন্দেহের চোখে দেখি। এখন তারা একটি দলের দলদাস হিসেবে মাঠে নামছে। নির্বাচন কমিশনকে বলব—যারা এসব পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ এখন থেকেই শুরু করেছে, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে। বায়াস প্রশাসন দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। প্রশাসন ও পুলিশকে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু জেলায় এসপি ও ডিসিরা বিএনপির পা চাটতে চাটতে ব্যস্ত হয়ে যাচ্ছে। বিএনপির প্রার্থীদের সুনজরে পড়ার জন্য তারা ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। যারা এসব কাজ করবে, তাদের পরিণতি বেনজিরের মতোই হবে। নির্বাচন ম্যানুপুলেট করা হলে তরুণ প্রজন্ম বসে থাকবে না।’
এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, ‘আবু সাঈদ হত্যার পর আওয়ামী লীগের নেতারা বলেছিল, আমার ভাই আবু সাঈদ নাকি ড্রাংক ছিলেন। ঠিক একই সুরে আমার ভাই ওসমান হাদিকে বিএনপির এক নেত্রী বলেছেন, তিনি নাকি গিনিপিগ, হাদি নাকি তেলাপোকার মতো। তার কথার মধ্যে ফ্যাসিবাদের চরিত্র স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, হাদি ভাইয়ের জানাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে—এ মানুষগুলোকে পকেটে নোট গুঁজে বা চাঁদার টাকায় বাসে করে আনা হয়নি। যারা হাদি ভাইয়ের নাম সম্মানের সঙ্গে নিতে পারে না, তারা জনবিচ্ছিন্ন। তারা ইনকিলাব মঞ্চের নামটিও নিতে পারে না। তারা জানে না হাদি ভাইয়ের সঙ্গে জেনজির সম্পৃক্ততা কী ছিল। বাংলাদেশ পুনর্গঠনে হাদি ভাইয়ের দর্শন কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তারা তা ধরতে পারে না। তাদের কাছে হাদি ভাই গিনিপিগই মনে হবে।হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘এই দুর্নীতিগ্রস্ত চাঁদাবাজদের দলের নিলুফাদের মতো নেত্রীরা আমাদের জনআকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে সবসময় অবস্থান নিয়েছে। এই বক্তব্যের জন্য তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, আপনারা দেখেছেন গত দেড় বছরে কোন কোন দল সংস্কারের বিপক্ষে গেছে। তারা জনআকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের ফলে জনগণ যে স্বপ্ন দেখেছিল, তার বিপক্ষে কারা দাঁড়িয়েছে তা জনগণ দেখেছে। আপনাদের আগামীর ভোট হোক আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে, আপনাদের ভোট হোক সংস্কারের পক্ষে।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।
এবি পার্টির জেলা আহ্বায়ক মাস্টার আহসান উল্লাহর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক ফজলুল হক ও এনসিপির জেলা সদস্য সচিব শাহ ওয়ালি উল্লাহর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ও এবি পার্টির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী শাহ আলম বাদল। এ ছাড়াও গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটের জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।