পীরগঞ্জ ভূমি অফিসের এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে এলাকায় ১৬ জন ব্যক্তি ভূমি মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করেছেন। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিবের নির্দেশে উপ-সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক (ডিসি) কে গত ২৬/১১/২০২৫ইং তারিখে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
জানা গেছে, পীরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এন.এম. ইশফাকুল কবীরের বিরুদ্ধে রঘুনাথপুর মহল্লার রেজাউর করিমের পুত্র আজিজুল হকসহ এলাকার ১৬ জন সম্প্রতি ওই মন্ত্রণালয়ে সচিব বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম : যুগ্ম জেলা জজ ঠাকুরগাঁও আদালতের নির্দেশ অমান্য করা, সেবা প্রত্যাশী গ্রাহকের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ করা ও চাওয়া, গ্রাহককে হয়রানি করা, অশ্লীল ও মানহানিকর ভাষা প্রয়োগ করা, হুমকি-ধমকি দেওয়া।
এ ছাড়াও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সুনাম নষ্ট করা, নামজারি আবেদন ও নাম খারিজ বাতিলের দরখাস্ত শুনানিতে আইনগত ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া ও ক্ষমতার অপব্যবহার।
এ ছাড়া ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রশাসন ক্যাডারে ৩৮ তম বিসিএসএ নিয়োগপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এলাকায় অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে বলে ভুক্তভোগী মোশাররফ হোসেনসহ অনেকেই জানিয়েছেন।বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের তার বিরুদ্ধে দাখিলকৃত অভিযোগগুলোর মধ্যে গত ০৪/১১/২০২৫ইং তারিখে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়, রংপুর ও কমিশনারের নির্দেশে ওই কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার আর্নিকা আক্তার ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসককে এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
৩৬ দিন পেরিয়েও ঠাকুরগাঁও ডিসি ইশরাত ফারজানা বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশ এখনো বাস্তবায়ন করেননি।
অপরদিকে গত ২৬/১১/২০২৫ইং তারিখে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিবের নির্দেশে উপ-সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসককে পীরগঞ্জ উপজেলা এসিল্যান্ড এন.এম. ইশফাকুল কবীরের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগ তদন্ত ও সত্যতা যাচাইপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে ভূমি মন্ত্রণালয়কে অবগত করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।
দুটি তদন্তের চিঠি বর্তমানে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে লাল ফিতায় বন্দি রয়েছে। তদন্ত না হওয়া ও এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত ব্যবস্থা না নেওয়ায় অভিযোগকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক (ডিসি) ইশরাত ফারজানার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অপরদিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এন.এম. ইশফাকুল কবীর জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো সম্পর্কে আমি অবগত। তদন্ত করে সত্যতা প্রমাণিত হলে ডিপার্টমেন্ট আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে, এতে আমার কোনো আপত্তি নেই।
বিষয়টি অভিযোগকারীরা দ্রুত সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।