আপনার কি সবসময় মনে হয় টেবিলের ওপর বইগুলো একটু বাঁকা হয়ে আছে বা রিমোটটা ঠিক জায়গামতো নেই? কিংবা কোনো কাজ নিজে না করলে মনে হয়, অন্য কেউ সেটা ঠিকঠাক করতেই পারবে না? আমরা অনেকেই নিজেকে পারফেকশনিস্ট বা নিখুঁত হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করি। কিন্তু এই নিখুঁত থাকার চেষ্টা যখন আপনার মানসিক শান্তির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তখন সেটা আর সাধারণ স্বভাব থাকে না।
অনেকেই এই লক্ষণগুলোকে OCD বা শুচিবায়ু বলে ভুল করেন। কিন্তু আপনি কি জানেন, চিকিৎসা বিজ্ঞানে OCD এবং OCPD এই দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি সমস্যা যদিও উভয় নামের মিল থাকলে? আজ আমরা সেই গোলকধাঁধার সমাধান করব এবং জানব কেন এই সমস্যাগুলো তৈরি হয়।
একনজরে OCD
OCD বা Obsessive Compulsive Disorder হলো এমন একটি মানসিক অবস্থা যেখানে একজন মানুষের মনে অবাঞ্ছিত ও অহেতুক চিন্তা (Obsession) বারবার ফিরে আসে। এই চিন্তা দূর করতে তিনি বাধ্য হয়ে বারবার একই কাজ (Compulsion) করেন। যেমন: হাতে ময়লা লেগে আছে ভেবে বারবার হাত ধোয়া, বা দরজা বন্ধ করেছেন কি না তা বারবার চেক করা। রোগী নিজেও জানেন তার এই চিন্তাগুলো অযৌক্তিক, কিন্তু তিনি তা থামাতে পারেন না। এটি তাকে প্রচণ্ড মানসিক যন্ত্রণা দেয়।
ওসিডি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন
OCPD কী
আজকের আলোচনার মূল বিষয় হলো Obsessive Compulsive Personality Disorder বা OCPD। নাম শুনে মনে হতে পারে এটি OCD-এরই ভাই-বোন, এবং লক্ষণগুলোতেও প্রায় ৯০ শতাংশ মিল পাওয়া যায়। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের গভীরে এদের চরিত্র আকাশ-পাতাল ভিন্ন। ওসিপিডি হলো ব্যক্তিত্বের একটি ধরণ বা পারসোনালিটি ডিসঅর্ডার। এতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা নিয়মকানুন, শৃঙ্খলা এবং নিখুঁত কাজের প্রতি এতটাই আচ্ছন্ন থাকেন যে, তাদের জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ হারিয়ে যায়।
পরিসংখ্যান
আপনারা পরিসংখ্যান শুনলে অবাক হবেন যে, মানসিক স্বাস্থ্যের জগতে OCD নিয়ে যতটা আলোচনা হয়, OCPD নিয়ে ততটা হয় না। অথচ গবেষণায় দেখা গেছে, সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে OCPD OCD-র চেয়েও বেশি প্রচলিত। জনসংখ্যার প্রায় ২-৭ শতাংশ মানুষ জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে OCPD-তে ভুগে থাকেন, যা OCD-র হারের চেয়ে অনেক বেশি (OCD-র চেয়ে ১-২ শতাংশ বেশি)।
OCPD কেন হয়
ওসিপিডি বা অবসেসিভ কম্পালসিভ পারসোনালিটি ডিসঅর্ডারের পেছনে বংশগতির একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবারের রক্ত সম্পর্কীয় কারো, যেমন বাবা-মা বা ভাই-বোনের যদি এই সমস্যা থাকে, তবে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে এটি সঞ্চারিত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটা বেড়ে যায়। নির্দিষ্ট কিছু জিনের মিউটেশন বা পরিবর্তন মস্তিষ্কের সেই অংশগুলোকে প্রভাবিত করে, যা আমাদের মেজাজ ও স্বভাব নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে জন্মগতভাবেই অনেকের মধ্যে অতিরিক্ত খুঁতখুঁতে স্বভাব বা অনমনীয়তার বীজ রোপিত থাকতে পারে।
তবে জিনগত কারণের চেয়েও একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব কেমন হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে তার শৈশবের ওপর। যেসব শিশু অতিরিক্ত কঠোর শাসনে বড় হয়, তাদের মধ্যে ওসিপিডি হওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। যদি বাবা-মা সন্তানের প্রতি অতিরিক্ত সুরক্ষাপ্রবণ হন অথবা ভালোবাসা প্রদর্শনের শর্ত হিসেবে নিখুঁত কাজ বা ভালো রেজাল্ট দাবি করেন, তখন শিশুটি মনে করতে থাকে যে ভুল করা মানেই অপরাধ। এই “ভুল করা যাবে না” মানসিকতাটিই বড় বয়সে ওসিপিডিতে রূপ নেয়। তারা মনে করে, ভালোবাসা বা গ্রহণযোগ্যতা পেতে হলে সবকিছু ১০০ ভাগ ঠিকঠাক হতে হবে। গবেষণায় দেখা গেছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরিবারের বড় ছেলে বা দায়িত্বরতদের মধ্যেই OCD বা OCPD রয়েছে।তাছাড়া আমরা যে পরিবেশে বড় হই বা কাজ করি, তাও আমাদের ব্যক্তিত্ব গড়ে দেয়। যে সমাজে বা কর্মক্ষেত্রে নিয়মকানুন, সময়ানুবর্তিতা এবং নিখুঁত কাজকে অতিরিক্ত বা অযৌক্তিক মাত্রায় গুরুত্ব দেওয়া হয়, সেখানে টিকে থাকার চেষ্টায় অনেকের মধ্যে এই রোগের লক্ষণ দেখা দেয়। যারা খুব দায়িত্বশীল পদে কাজ করেন বা যাদের ওপর ভুলের কোনো সুযোগ নেই, তাদের পেশাগত অভ্যাস অনেক সময় ব্যক্তিগত জীবনেও চলে আসে এবং ব্যক্তিত্বের বিকার ঘটায়।
OCPD-এর লক্ষণ ও জীবনের ওপর এর প্রভাব
ওসিপিডি আক্রান্ত ব্যক্তির জীবনের মূল মন্ত্রই হলো নিয়ম। তারা তালিকার বাইরে একচুলও নড়তে চান না। যেকোনো কাজ করার সময় তারা মূল উদ্দেশ্যের চেয়ে সেই কাজের নিয়ম, তালিকা বা ছক নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকেন। ধরুন, তারা কোথাও ঘুরতে যাবেন; ভ্রমণের আনন্দ নেওয়ার বদলে তারা ব্যাগ গোছানোর তালিকা বা শিডিউল ঠিক রাখতেই এত সময় নষ্ট করবেন যে আসল আনন্দটাই মাটি হয়ে যাবে। তাদের কাছে জীবনের স্বতঃস্ফূর্ততার চেয়ে রুটিন মেনে চলা অনেক বেশি জরুরি।
এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা বিশ্বাস করেন, “একমাত্র তারাই কাজটি সঠিকভাবে করতে পারেন। অন্য কেউ তার মতো করে পারবে না।”- এই ধারণা থেকে তারা কোনো কাজ সহকর্মী বা পরিবারের সদস্যদের হাতে ছাড়তে পারেন না। যদি বা ছাড়েনও, তবে প্রতি মুহূর্তে নির্দেশ দিতে থাকেন বা খুঁত ধরেন। এতে তারা নিজেরা যেমন অতিরিক্ত কাজের চাপে পিষ্ট হন, তেমনি তাদের এই আচরণের কারণে আশেপাশের মানুষ বিরক্ত ও হতাশ হয়ে পড়ে। তারা চান সবাই ঠিক তাদের নিয়ম মেনেই চলুক, যা বাস্তবে অসম্ভব।
ওসিপিডি রোগীদের মধ্যে অনেক সময় জিনিস জমানোর স্বভাব দেখা যায়। পুরনো খবরের কাগজ, নষ্ট ইলেকট্রনিক্স বা ছেঁড়া কাপড়, যেগুলো আদতে কোনো কাজেই লাগবে না সেগুলো ফেলতে তাদের প্রচণ্ড মায়া কাজ করে। তারা ভাবেন, “ভবিষ্যতে যদি কখনো কাজে লাগে, তাহলে?” এই অযৌক্তিক ভাবনার কারণে তাদের ঘরবাড়ি অপ্রয়োজনীয় জিনিসে ভরে ওঠে কিন্তু তারা কিছুই ফেলতে পারেন না।
নিখুঁত থাকার চাপেই এলোমেলো জীবন
অদ্ভূত শোনালেও সত্য যে, এই অতিরিক্ত নিখুঁত থাকার চাপই অনেক সময় রোগীকে চরম অগোছালো বা বিশৃঙ্খল করে তুলতে পারে। বাইরে থেকে দেখে মনে হবে তারা অলস, কিন্তু এর পেছনের কারণ ভিন্ন।
১. All-or-Nothing মানসিকতা: ওসিপিডি রোগীরা মনে করেন যে কাজটা করলে ১০০ ভাগ নিখুঁতভাবেই করব, নাহলে করবই না। উদাহরণস্বরূপ, ঘর গোছাতে গিয়ে তারা ভাবেন প্রতিটি কোণা নিখুঁত হতে হবে। কিন্তু এত সময় বা এনার্জি নেই বলে তারা কাজটা শুরুই করেন না। ফলে দিনের পর দিন ঘর অগোছালোই পড়ে থাকে। একে বলা হয় Procrastination due to Perfectionism।
২. সিদ্ধান্তহীনতা: কোন জিনিসটা কোথায় রাখলে সবচেয়ে ভালো হবে, বা কোন কাজটা আগে করা উচিত—এই নিয়ে তারা এতটাই বিশ্লেষণ করেন যে, শেষমেশ কোনো সিদ্ধান্তই নিতে পারেন না। একে বলা হয় Analysis Paralysis। এর ফলেই মূলত টেবিলের ওপর ফাইলের স্তূপ বা ফ্লোরে কাপড়ের পাহাড় জমতে থাকে।
৩. হাল ছেড়ে দেওয়া: সারাক্ষণ নিয়ম মানার চেষ্টা করতে করতে মস্তিষ্ক একসময় ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তখন তারা আর কুলিয়ে উঠতে পারেন না। ফলে যে মানুষটি একসময় সব গুছিয়ে রাখতেন, তিনি মানসিক অবসাদ বা ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হয়ে একদম এলোমেলো জীবনযাপন শুরু করতে পারেন।OCD বনাম OCPD: আসল পার্থক্য কোথায়
বাইরে থেকে দেখলে একজন OCD এবং একজন OCPD রোগী, উভয়ই হয়তো ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘর পরিষ্কার করছেন। কিন্তু তাদের মনের ভেতরের জগত সম্পূর্ণ উল্টো।
১. নিজের সমস্যা বোঝা:
OCD এবং OCPD-র মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো নিজের সমস্যাটি বুঝতে পারার ক্ষমতায়। ওসিডি রোগীরা জানেন যে তাদের চিন্তাগুলো অযৌক্তিক। বারবার হাত ধোয়া বা দরজা চেক করা যে অপ্রয়োজনীয়, সেটা তারা বোঝেন কিন্তু থামাতে পারেন না বলে কষ্টে ভোগেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় Ego-dystonic বা নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যাওয়া।
অন্যদিকে, ওসিপিডি রোগীরা মনে করেন তাদের আচরণই একদম সঠিক। তারা বিশ্বাস করেন যে তাদের নিয়মগুলো মেনে চললে জীবন সুন্দর হবে। তাদের মতে, সমস্যা তাদের নয়, বরং সমস্যা হলো বাকি পৃথিবীর মানুষের, যারা তাদের মতো নিয়ম মেনে চলে না। একে বলা হয় Ego-syntonic বা নিজের কাছে সঠিক মনে হওয়া।
২. ভয় বনাম স্বভাব:
OCD মূলত একটি Anxiety Disorder। এখানে রোগীর কাজের পেছনে থাকে তীব্র ভয়। যেমন, হাত না ধুলে জীবাণু আমাকে মেরে ফেলবে। তারা ভয় কমানোর জন্যই কাজগুলো করেন। বিপরীতভাবে, OCPD হলো Personality Disorder। এখানে কোনো নির্দিষ্ট ভয় কাজ করে না, বরং কাজ করে নিখুঁত হওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা। তারা ঘর পরিষ্কার করেন জীবাণুর ভয়ে নয়, বরং তারা মনে করেন ঘর অগোছালো থাকাটা অনুচিত বা অনৈতিক। মূলত, ২ ধরণের সমস্যায় আক্রান্ত মানুষদের ২ রকম প্ররোচনা থেকে কাজ করে।
৩. শরীরবৃত্তীয় উৎস:
OCD-এর ক্ষেত্রে সাধারণত মস্তিষ্কের রাসায়নিক ভারসাম্যহীনতা বা কেমিক্যাল ইমব্যালেন্স (যেমন সেরোটোনিনের অভাব) বেশি দায়ী থাকে, যদিও বংশগতি সেখানেও ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে ওসিপিডি মূলত ব্যক্তিত্বের গঠন, কঠোর শৈশব এবং পরিবেশগত কারণে গড়ে ওঠা একটি দীর্ঘমেয়াদী স্বভাব।
একটি থাকলে কি অন্যটি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে?
এখন প্রশ্ন হলো, যার OCD আছে তার কি OCPD হতে পারে? অথবা উল্টোটা? চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এই দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ক্যাটাগরির রোগ হলেও এদের মধ্যে এক ধরণের Co-morbidity বা সহাবস্থান দেখা যায়। অর্থাৎ, ওসিডি আক্রান্ত রোগীদের একটি অংশের মধ্যে (গবেষণায় প্রায় ১৫-২৮ শতাংশ) ওসিপিডি-র লক্ষণও থাকতে পারে।
যখন এই দুটি সমস্যা একসাথে থাকে, তখন পরিস্থিতিটা রোগীর জন্য বেশ জটিল হয়ে যায়।
বিষয়টি বুঝতে একটি কাল্পনিক দৃশ্য ভাবুন। আপনার মনের ভেতর যদি একই সাথে একজন ভীতু মানুষ (OCD) এবং একজন কঠোর পুলিশ অফিসার (OCPD) বসবাস করে, তাহলে কী হতে পারে? একদিকে ভীতু মানুষটি ভয়ে কাঁচুমাচু হয়ে আছে, আর অন্যদিকে পুলিশ অফিসারটি তাকে জোর করছে নিয়ম মানতে।
এই দ্বৈত সত্তার ফলে সাধারণত দুটি সমস্যা প্রকট হয়ে ওঠে।
প্রথমত হচ্ছে, লক্ষণগুলোর তীব্রতা। OCD-এর অযৌক্তিক ভয়গুলোকে OCPD-র কঠিন নিয়মকানুন আরও বেশি শক্তপোক্ত করে দেয়।দ্বিতীয়ত হচ্ছে, চিকিৎসায় বাধা। রোগী হয়তো তার OCD-র কষ্ট বা ভয় কমাতে চান, কিন্তু তার OCPD-র স্বভাব তাকে নিয়ম ভাঙতে বা নিজেকে ছাড় দিতে বাধা দেয়। এই ডাবল বাধার কারণে চিকিৎসা বা থেরাপি (যেমন CBT) কাজ করাটা চিকিৎসকদের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ে।
নির্ণয় ও চিকিৎসায় প্রযুক্তির ছোঁয়া
সাধারণত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টরা রোগীর ইতিহাস জেনে এটি নির্ণয় করেন। ওসিপিডি যেহেতু ব্যক্তিত্বের সমস্যা, তাই এর চিকিৎসা সময়সাপেক্ষ। এর প্রধান চিকিৎসা হলো Cognitive Behavioral Therapy (CBT)। এর মাধ্যমে রোগীকে বোঝানো হয় যে, সবসময় নিখুঁত না হলেও পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে না। বর্তমানে চিকিৎসার ক্ষেত্রে Telehealth বা অনলাইন থেরাপি বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে। এছাড়া কিছু উন্নত VR (Virtual Reality) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে যেখানে রোগীকে কৃত্রিমভাবে অগোছালো পরিবেশে রেখে তার উদ্বেগ কমানোর প্র্যাকটিস করানো হয়।
ওসিডি ও ওসিপিডি থেকে বাঁচার উপায়
ওষুধ ও থেরাপির পাশাপাশি জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনলে এই সমস্যাগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
মাইন্ডফুলনেস ও মেডিটেশন:
প্রতিদিন সকালে বা রাতে অন্তত ১০-১৫ মিনিট মেডিটেশন মস্তিষ্কের অস্থিরতা কমায়। এটি ওসিডি রোগীদের উদ্বেগ কমায় এবং ওসিপিডি রোগীদের অনমনীয় মানসিকতা শিথিল করতে জাদুর মতো কাজ করে। Done is better than perfect– এই কথাটি সবসময় মেনে চলুন। নিজেকে বোঝান, মানুষ মাত্রই ভুল করে। ভুল করেই মানুষ শিখতে পারে।
ইচ্ছে করে ভুল করা: ঘরে বসেই ছোট ছোট পরীক্ষা চালান। ইচ্ছে করেই বিছানাটা একটু অগোছালো রাখুন বা বইগুলো বাঁকা করে সাজান। এরপর সেই অস্বস্তি নিয়ে কিছুক্ষণ বসে থাকুন। ধীরে ধীরে মস্তিষ্ক শিখবে যে, সবকিছু নিখুঁত না হলেও বড় কোনো ক্ষতি হয় না।
ঘুম ও খাদ্যাভ্যাস: প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম এবং ওমেগা-৩ যুক্ত খাবার মস্তিষ্ক শান্ত রাখে। কফি বা ক্যাফেইন জাতীয় খাবার কমিয়ে ফেলুন, কারণ এটি এনজাইটি বাড়িয়ে দেয়।
প্রকৃতির সান্নিধ্য ও ব্যায়াম: নিয়মিত ব্যায়ামে মস্তিষ্কে সেরোটোনিন ও এন্ডোরফিন বাড়ে, যা প্রাকৃতিক ওষুধের কাজ করে।
পারিবারিক সহায়তা: পরিবারের সদস্যদের উচিত রোগীকে দোষারোপ না করা। ওসিপিডি রোগীদের বোঝাতে হবে যে তাদের নিয়মগুলো সম্পর্কের ক্ষতি করছে। আর ওসিডি রোগীদের ভয়ের সময় পাশে থাকতে হবে, তবে তাদের অযৌক্তিক দাবি পূরণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
বিশেষজ্ঞের স্মরণাপন্ন: কারো OCD বা OCPD আছে কিনা তা সাধারণত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টরা রোগীর ইতিহাস জেনে এটি নির্ণয় করেন। উভয় এর চিকিৎসাই সময়সাপেক্ষ। তাই, ধৈর্য্য ও একনিষ্ঠার সাথে বিশেষজ্ঞের পরামর্শে মেনে চলে নিজের জীবনকে স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসা সম্ভব।সর্বশেষ
নিখুঁত কাজ করা ভালো গুণ, কিন্তু সেই নিখুঁত থাকার নেশা যখন আপনার সুখ কেড়ে নেয়, তখন থামতে হবে। আপনি যদি OCD বা OCPD, যেকোনো একটির লক্ষণ নিজের মধ্যে খুঁজে পান, তবে ভয় পাবেন না। এটি কোনো দুর্বলতা নয়, এটি চিকিৎসার মাধ্যমে সমাধানযোগ্য একটি সমস্যা। নিজের মনের যত্ন নিন, কারণ অগোছালো জীবনও সুন্দর হতে পারে।
তথ্যসুত্রঃ PMC, International OCD Foundation, WebMD, Medical News Today