সন্ত্রাসী সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) প্রতি ফেসবুকে সমর্থনের দায় স্বীকার করায় মোহাম্মদ দিদারুল আলম (২৯) নামে এক বাংলাদেশিকে ১০ বছরের কারাদ- দিয়েছেন মালয়েশিয়ার হাইকোর্ট। দিদারুল আলম একটি রেস্তেরাঁয় কাজ করতেন। গতকাল শুক্রবার বিচারপতি আজহার আবদুল হামিদ এই সাজা ঘোষণা করেন এবং তার গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে কারাদ- কার্যকর করার নির্দেশ দেন।
মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বার্নামা জানিয়েছে, রায়ে আসামিকে কারাদ-ের সাজা শেষ করার পর তার নিজ দেশে ফেরত পাঠানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দিদারুলের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ২৭ মে বুকিত আমানে স্পেশাল ব্রাঞ্চের সন্ত্রাসবাদবিরোধী বিভাগ ‘আল মুবিন ইসলাম’ নামে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে আইএস সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সহায়তা প্রদানের অভিযোগ আনে। পরে দেশটির দ-বিধির ১৩০জে (১)(এ) ধারার অধীনে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল, যার সর্বোচ্চ শাস্তি ৪০ বছরের কারাদ-, অর্থদ- এবং অপরাধ সংঘটনে ব্যবহৃত যেকোনো সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের বিধান রয়েছে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী পুলিশ তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত দিদারুল তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ছবি, ভিডিও এবং অন্যান্য বিষয়বস্তু পোস্ট ও শেয়ার করে আইএস সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর প্রচারণা চালিয়েছেন।
মালয়েশিয়ার ডেপুটি পাবলিক প্রসিকিউটর আফতাল মারিজ মাহামেদ আদালতের কাছে আবেদন করেছেন, অভিযুক্ত এবং অন্য বিদেশি নাগরিকদের, বিশেষ করে যারা সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কিত কার্যকলাপে জড়িত, তাদের প্রতিরোধ করার জন্য একটি উল্লেখযোগ্য শাস্তি প্রদান করা হোক।
তিনি বলেন, অভিযুক্তের কোনো পূর্ববর্তী অপরাধমূলক রেকর্ড নেই, তবে এটি একটি গুরুতর অপরাধ, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।
এদিকে আদালতে দিদারুল একজন দোভাষীর মাধ্যমে বাংলাদেশে তার পরিবার ও বাবা-মাকে ভরণপোষণের জন্য আবেদন করেন। তিনি বাংলায় বললেন, ‘আমি মালয়েশিয়ায় কাজ করতে এসেছি এবং আমার ভুলের জন্য আমি ক্ষমা চাইছি।’