শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:০২ অপরাহ্ন

ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য ২৪ ঘণ্টায় উদঘাটন পুলিশের

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫

গাজীপুরের শ্রীপুরে গার্মেন্টস শ্রমিক সুমা আক্তারকে হত্যার ঘটনায় মাত্র ২৪ ঘণ্টায় রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শ্রীপুর থানার গোসিংগা ইউনিয়নের পাচুলটিয়ার গুপ্তবাইদ এলাকার গাজারি বাগান থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়।

লাশটির মাথার বাম পাশে আঘাতের চিহ্ন, নাক-কান দিয়ে রক্তপাত, বোরকা ও পোশাকে পোড়া দাগ এবং গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায়।

ডান পায়ের মাংস ক্ষয়ে যাওয়ায় লাশ শনাক্ত করা কঠিন ছিল। পরে পিবিআইয়ের ফিঙ্গার প্রিন্ট বিশ্লেষণে পরিচয় নিশ্চিত হয়-নিহত নারীর নাম সুমা আক্তার (২৫), বাড়ি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের কচুয়ারচর।

পরদিন সুমার মা মমতা বেগম শ্রীপুর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

গাজীপুর পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীনের নির্দেশনায় জেলা পুলিশের একটি চৌকস আভিযানিক দল মাঠে নামে।

দলটিতে শ্রীপুর থানার কর্মকর্তা, গোয়েন্দা সদস্য এবং সার্কেল-অফিসের বিশেষ প্রশিক্ষিত সদস্যরা অংশ নেন।

গাজীপুর জেলা পুলিশের এই টিম ঘটনাস্থল, ভিকটিমের বাসা, কর্মস্থল এবং সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের তৎপরতা বিশ্লেষণ করে-মোবাইল ট্র্যাকিং, সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত আসামির সম্ভাব্য গতিবিধি শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তারা নিহতের সহকর্মী মো. রাসেলকে (২৪) চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকেই পুরো হত্যার কাহিনি বেরিয়ে আসে।

জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল জানায়, একই গার্মেন্টসে কাজ করতে গিয়ে সুমার সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের বিষয়ে চাপ সৃষ্টি হওয়ায় দু’জনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।

৭ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাসেল সুমাকে নিয়ে গুপ্তবাইদ গাজারি বাগানে যায়। সেখানে কিল-ঘুষি ও লাথি মারার পর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে লাশ ফেলে পালিয়ে যায়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সুমার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

রাসেল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে।

শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি প্রথমে সম্পূর্ণ ক্লুলেস ছিল। তবে জেলা পুলিশের চৌকস টিম মাঠে নামার পর দ্রুত তথ্যউপাত্য আমরা হাতে পাই। প্রযুক্তি, লোকজনের বিবরণ ও গোয়েন্দা তৎপরতা মিলিয়ে খুব স্বল্প সময়েই আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।কালিয়াকৈর-শ্রীপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মেরাজুল ইসলাম বলেন, নিহতের পরিচয় শনাক্ত করাটাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। পরিচয় মেলার পর আমরা ঘটনাটির কোর ফ্যাক্টরগুলো-সম্পর্ক, যোগাযোগ, গতিবিধি-সবকিছু বিশ্লেষণ করি।

চৌকস টিমের সমন্বিত তৎপরতার ফলেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তদন্তের প্রতিটি ধাপ গুরুত্ব সহকারে এগোচ্ছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102