আন্তঃনগর সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনে এক যাত্রীকে অচেতন করে টাকা ও মোবাইল হাতিয়ে নেওয়ার সময় ফুল মিয়া (৫৬) নামে অজ্ঞান পার্টির এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে রেলওয়ে পুলিশ।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী।
অচেতন হয়ে যাওয়া যাত্রী হাজী মফিজুর রহমান সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি সীমান্ত এক্সপ্রেসের ‘ঙ’ বগির ৩৪ নম্বর আসনে ছিলেন। তার বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার হেলাফেলা গ্রামে। বুধবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত তার জ্ঞান ফেরেনি বলে জানিয়েছে রেলওয়ে থানা পুলিশ।
রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনটি দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলস্টেশন অতিক্রম করার পর মফিজুর রহমান অচেতন হয়ে পড়েন। বিষয়টি টের পেয়ে ট্রেনে দায়িত্ব পালনরত রেলওয়ে পুলিশ তার পাশের যাত্রী ফুল মিয়াকে আটক করে। পরে তার দেহ তল্লাশি করে মফিজুর রহমানের টাকা ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, ২০২৫ সালের ৩০ আগস্ট একই ট্রেনে দুই নারী যাত্রীকে জুস পান করিয়ে অচেতন করার অভিযোগে ফুল মিয়াকে আটক করা হয়েছিল। ওই সময় অচেতন দুই নারীর কানের দুল ও নাকের ফুল খুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। পাশের এক যাত্রী বিষয়টি বুঝতে পেরে ফুল মিয়াকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে তার কাছে থাকা জুস পরীক্ষা করতে তাকেই পান করানো হলে তিনি নিজেও অচেতন হয়ে পড়েন।
সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার ওসি জুলফিকার আলী বলেন, ‘ওই যাত্রীর সঙ্গে ফুল মিয়ার আলাপচারিতার একপর্যায়ে তাকে জুস পান করানো হয়। এরপর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।’
এ ঘটনায় সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মিজানুর রহমান বাদী হয়ে ফুল মিয়াসহ তার অজ্ঞাতনামা দুই থেকে তিন সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ফুল মিয়ার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন রেলওয়ে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।