সুন্দরবনে কুখ্যাত ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ তিন সদস্যকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। অভিযানের সময় ডাকাতদের সঙ্গে কোস্ট গার্ডের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাও ঘটে।
শুক্রবার (১৫ মে ২০২৬) সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় বনদস্যু বাহিনী নির্মূলের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় পঞ্চমবারের মতো পরিচালিত “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড”-এ কুখ্যাত করিম শরীফ বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাগেরহাটের শরণখোলা থানাধীন সুন্দরবনের শ্যালা নদীর মরা চানমিয়া খালী খালসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। গত বুধবার (১৩ মে) বিকেল ৫টা থেকে দুই দিনব্যাপী কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা এবং স্টেশন কোকিলমনি যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত সদস্যরা গুলিবর্ষণ শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ডও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে কোস্ট গার্ডের তীব্র প্রতিরোধের মুখে ডাকাতরা পালানোর চেষ্টা করলে অভিযানকারী দল ধাওয়া দিয়ে তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হয়।
আটককৃতদের কাছ থেকে ৩টি একনলা বন্দুক, ১টি দেশীয় পিস্তল, ৪৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১৮৭ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি, ২টি ওয়াকিটকি এবং ৪টি ওয়াকিটকি চার্জার উদ্ধার করা হয়েছে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন: বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ থানার মোঃ মেহেদী হাসান (২৫) ও মো. রমজান শরীফ (১৯), এবং ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানার মোঃ এনায়েত (২৫)।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে করিম শরীফ বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।
এদিকে, গত ১৩ মে বনবিভাগের তৎপরতা ও সহযোগিতায় করিম শরীফ বাহিনীর হাতে জিম্মি থাকা চার জেলেকে উদ্ধার করে কোস্ট গার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ এবং আটক ডাকাতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।