বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার লাকুটিয়া এলাকার বকশীরচর গ্রামে জন্ম আমিনুল ইসলামের। তার বাবা মো. খলিলুর রহমান এবং মা আলেয়া বেগম। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ঢাকায় এসে শিক্ষা জীবন শুরু করার পাশাপাশি ধীরে ধীরে ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হন।
শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। ২০০০-২০০১ সেশনে ভর্তি বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে শিক্ষা সমাপ্ত করেন। পরে অতীশ দীপঙ্কর ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি-এ ইইই বিভাগে অধ্যয়ন করেন। তার শিক্ষাজীবনের বড় একটি অংশই কেটেছে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে।
রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে আমিনুল ইসলামের উত্থান মূলত ছাত্রদলের রাজনীতি ঘিরে। ২০০৩ সালে তিনি ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে আহ্বায়ক এবং সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। ২০০৫ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ওই সময় পলিটেকনিক ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
পরবর্তীতে তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং ২০১৬ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান। ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার সময় বিভিন্ন আন্দোলন, মানববন্ধন, বিক্ষোভ, মিছিল ও সমাবেশে নিয়মিত অংশ নেন তিনি।
দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যখন ব্যাপক ধরপাকড় ও মামলা চলছিল, তখনও আমিনুল ইসলাম রাজপথ ছাড়েননি। বিশেষ করে বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত সরকারবিরোধী আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার কর্মসূচি এবং জুলাইয়ের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর এলাকায় সক্রিয়ভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে তৃণমূল নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন।
যুবদলের নেতারা বলছেন, কঠিন সময়ে যারা মাঠে ছিল, আমিনুল ইসলাম তাদের অন্যতম। পুলিশের বাধা, হামলা-মামলা ও গ্রেপ্তার আতঙ্কের মধ্যেও তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজপথে ছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে বিএনপি সাংগঠনিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিজেদের প্রস্তুত করছে। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইতোমধ্যে আন্দোলনে পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের বার্তা দিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে মহানগর, জেলা এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো ঢেলে সাজানোর কাজ চলছে।
২০২৪ সালের ৭ জুলাই ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর নতুন সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু হয়। পরে ২০২৫ এর ফেব্রুয়ারিতে কমিটিতে পরিবর্তন এলেও আমিনুল ইসলামকে আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে রাখা হয়। বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
নেতাকর্মীদের ভাষ্যমতে, আমিনুল ইসলাম শুধু কর্মসূচিভিত্তিক নেতা নন, তিনি কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন এবং সাংগঠনিকভাবে সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে চলার চেষ্টা করেন। তাদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ছাত্রদল ও যুবদলের সাংগঠনিক ব্যাকগ্রাউন্ড এবং রাজপথের সক্রিয়তার কারণে তিনি এখন মহানগর উত্তর যুবদলের অন্যতম আলোচিত নেতা।
সম্প্রতি বিএনপি জাতীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে ৮২টি সাংগঠনিক ইউনিট এবং অঙ্গসংগঠন পুনর্গঠনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন কমিটিও সেই প্রক্রিয়ার অংশ। সেখানে ত্যাগী, পরীক্ষিত, আন্দোলনমুখী এবং তরুণ নেতৃত্বকে মূল্যায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিএনপি এখন এমন নেতৃত্বকে সামনে আনতে চায় যারা গত দেড় দশকের আন্দোলন-সংগ্রামে সরাসরি মাঠে ছিলেন এবং রাজনৈতিক দমন-পীড়নের মধ্যেও সংগঠনকে সচল রেখেছেন। সেই বিবেচনায় ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সম্ভাব্য শীর্ষ নেতৃত্বের আলোচনায় অন্যতম নাম হয়ে উঠেছেন তিনি।
সব মিলিয়ে ছাত্রদল থেকে যুবদল দুই দশকেরও বেশি সময়ের রাজনৈতিক সক্রিয়তা, আন্দোলন-সংগ্রামে উপস্থিতি এবং সাংগঠনিক সম্পৃক্ততার কারণে এখন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নেতৃত্বের আলোচনায় অন্যতম পরিচিত নাম আমিনুল ইসলাম।







