ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয় করেছে বলে জানিয়েছে দলটি। নির্বাচনে অংশ নেওয়া ২২৭ জন প্রার্থীর বিপরীতে এই ব্যয়ের হিসাব নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দলটির একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদের কাছে নির্বাচনি ব্যয়ের বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেয়। আইন অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব দাখিল করতে হয়।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, নির্ধারিত ব্যয়সীমা অনুযায়ী দলটির মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রার্থীদের জন্য অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়েছে ৪ কোটি টাকা। বাকি অর্থ বিভিন্ন প্রচারণা ও সাংগঠনিক খাতে ব্যয় করা হয়েছে।
দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের স্বাক্ষরিত হিসাব অনুযায়ী, মোট ব্যয়ের পরিমাণ ৪ কোটি ৪৯ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭২ টাকা। এতে ২২৫ জন প্রার্থীকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রতি প্রার্থী গড়ে প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা করে পেয়েছেন।
নির্বাচনি ইশতেহার তৈরি ও ছাপানো, সংবাদ সম্মেলন আয়োজন, আপ্যায়ন, প্রচারসামগ্রী পরিবহন, কেন্দ্রীয় নেতাদের সফর এবং গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রকাশসহ বিভিন্ন খাতে এ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
হিসাব অনুযায়ী, নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যয় হয়েছে ২০ লাখ ৯০ হাজার ৮২৭ টাকা। এছাড়া জনসভা ও সফর খাতে ১৪ লাখ ১৭ হাজার ৫৯৯ টাকা, প্রশাসনিক ও আবাসন ব্যয় ৯ লাখ ৪৪ হাজার ৯৪৪ টাকা, স্টাফ খাতে ২ লাখ ৮৫ হাজার ৯০২ টাকা এবং পরিবহন বাবদ ৮ হাজার ৭০০ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। অন্যান্য খাতে আরও ২ লাখ টাকা ব্যয়ের তথ্যও রয়েছে।
২০১৩ সালে নিবন্ধন বাতিল হওয়ার পর টানা তিনটি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি জামায়াতে ইসলামী। তবে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আদালতের নির্দেশে দলটি পুনরায় নিবন্ধন ফিরে পায় এবং ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়।
এ নির্বাচনে জামায়াত ৬৮টি আসনে জয় লাভ করেছে। এর আগে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া দলটির সর্বশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৪ সালে প্রায় ২৯ কোটি টাকা আয় হলেও ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৪ কোটি টাকা।