সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ন

‘এমন দৃশ্য আগে দেখিনি’, চাঁদের অদেখা পিঠ দেখে বিস্মিত নভোচারীরা

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬

মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করেছে নাসার ‘আর্টেমিস ২’ মিশন। কয়েক দশকের বিরতির পর আবারও মানুষ চাঁদের এত কাছে পৌঁছানোর সুযোগ পেয়েছে। পৃথিবী থেকে চাঁদকে যেভাবে আমরা দেখি, তার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রূপ সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছেন এই মিশনের চারজন নভোচারী। চাঁদের অদেখা বা ‘ফার সাইড’ দেখে বিস্ময়ে অভিভূত হয়েছেন তারা।

এই মিশনে অংশ নিয়েছেন রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং জেরেমি হ্যানসেন। তারা নাসার ওরিয়ন মহাকাশযানে চড়ে গত কয়েকদিন ধরে মহাকাশে অবস্থান করছেন। গতকাল শনিবার (৪ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাতে তারা মিশনের তৃতীয় দিনে প্রবেশ করেন এবং চাঁদের কাছাকাছি পৌঁছে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

 

মিশনের মূল লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে চাঁদে মানুষের অবতরণের প্রস্তুতি নেওয়া। এটি একটি পরীক্ষামূলক যাত্রা, যেখানে চাঁদকে প্রদক্ষিণ করে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের চন্দ্রাভিযান এবং সম্ভাব্য স্থায়ী মানব বসতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে নাসা।

নাসার অনলাইন ড্যাশবোর্ড অনুযায়ী, ওরিয়ন মহাকাশযানটি শনিবার পর্যন্ত পৃথিবী থেকে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার মাইল দূরে অবস্থান করছিল, যা প্রায় ২ লাখ ৮৯ হাজার কিলোমিটারের সমান। চাঁদের বিপরীত দিকে পৌঁছানোর পর নভোচারীরা প্রথমবারের মতো সেই দৃশ্য দেখেন, যা পৃথিবী থেকে কখনোই দেখা সম্ভব নয়।

এই অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ক্রিস্টিনা কোচ বলেন, চাঁদের এই রূপ সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং অচেনা মনে হয়েছে, যা আগে কখনো দেখা হয়নি। তার মতে, এই দৃশ্য চেনা চাঁদের তুলনায় একেবারেই আলাদা এবং তা গভীর বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। অন্যান্য নভোচারীরাও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।

বর্তমানে ওরিয়ন মহাকাশযানটি চাঁদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করে পৃথিবীর দিকে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতিটি মুহূর্তে তারা মহাকাশ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং ছবি পাঠাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতের চন্দ্র মিশনের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান হিসেবে বিবেচিত হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মিশন কেবল প্রযুক্তিগত সাফল্যই নয়, বরং মানবজাতির মহাকাশ অভিযানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। দীর্ঘদিন পর চাঁদের এত কাছে মানুষের উপস্থিতি ভবিষ্যতের মহাকাশ গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে।

সব মিলিয়ে, চাঁদের অদেখা পিঠে প্রথমবারের মতো নভোচারীদের এই অভিজ্ঞতা মানব ইতিহাসে এক স্মরণীয় ঘটনা হিসেবে থেকে যাবে। আর্টেমিস ২ মিশনের সফলতা নিশ্চিত হলে খুব শীঘ্রই আবারও মানুষ চাঁদের মাটিতে পা রাখবে—এমন আশাই এখন সারা বিশ্বের।

তথ্যসূত্র : বিবিসি

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102