সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন

ব্যক্তির ক্ষমতা নয়, ন্যায়বিচারই হোক রাষ্ট্রের ভিত্তি : পূর্ণী

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

বর্তমান সময়ের তরুণ প্রজন্মের কাছে অন্যতম এক প্রিয় নাম পারশা মাহজাবীন পূর্ণী। নিজের জাদুকরি কণ্ঠ দিয়ে সংগীত জগতে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে অভিনয়ের আঙিনাতেও সমান দ্যুতি ছড়াচ্ছেন তিনি। একাধারে গায়িকা, অভিনেত্রী এবং চিত্রশিল্পী হিসেবে পরিচিত পূর্ণী বর্তমানে বাংলা বিনোদন জগতের এক সম্ভাবনাময় বহুমুখী প্রতিভা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছেন।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে মোট ১৩ কোটি ভোটারের মধ্যে প্রায় ৫ কোটিই তরুণ প্রজন্ম, যাদের একটি বড় অংশই প্রথমবারের মতো তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নতুন ভোটারদের এই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন শোবিজের দর্শকপ্রিয় মুখ পারশা মাহজাবীন পূর্ণী।

জুলাই আন্দোলনে গানের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়ে সাধারণ মানুষের নজর কেড়েছিলেন এই শিল্পী। তাই তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, তিনি ভোট দেবেন কিনা, কোন ধরনের প্রার্থীর প্রতি তার আস্থা থাকবে এবং প্রথমবার ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়ে তিনি কতটা উচ্ছ্বসিত?

পূর্ণীর ভাবনায় আগামীর বাংলাদেশ হবে আইনের শাসনের এক অনন্য উদাহরণ।

তিনি দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, আমি এমন একটি বাংলাদেশ কল্পনা করি, যেখানে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে সংবিধান ও আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগের মাধ্যমে। এখানে ব্যক্তির ক্ষমতা নয়, ন্যায়বিচার ও নীতিনিষ্ঠতাই হবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল ভিত্তি। বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে, প্রতিটি রায় হবে ন্যায়সংগত ও নিরপেক্ষ এবং আইনের চোখে সবাই সমানভাবে দায়বদ্ধ থাকবে।

তিনি আরও প্রত্যাশা করেন এমন এক প্রশাসনিক ব্যবস্থা, যেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে পেশাদারিত্ব ও মানবিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে এবং জনপ্রতিনিধিরা হবেন জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ।

উন্নয়ন বলতে পূর্ণী কেবল দালানকোঠা বোঝেন না, তার কাছে নাগরিকদের আচরণ ও মূল্যবোধই উন্নয়নের মূল মাপকাঠি। দেশের বর্তমান সংকট নিয়ে তিনি বলেন, আমাদের দেশে আজ একটি বড় সংকট হলো সিভিক সেন্সের অভাব। যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা বা জনস্থানের প্রতি দায়িত্বহীনতা সামাজিক অবক্ষয়ের প্রতিফলন। একটি উন্নত রাষ্ট্র গড়তে নাগরিকদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও সম্মিলিত কল্যাণের ধারণা জাগ্রত করা জরুরি।

সাক্ষরতার হার বাড়লেও শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন পূর্ণী। তিনি চান শিক্ষাকে কেবল ‘চাকরি পাওয়ার হাতিয়ার’ হিসেবে না দেখে ‘মানুষ তৈরির মাধ্যম’ হিসেবে গড়ে তুলতে। তার ভাষায়, সহনশীলতা, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং যুক্তির চর্চা, এই মূল্যবোধগুলো শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে হবে। বাংলাদেশ হবে সবার, এখানে ভিন্নমত থাকবে, মতাদর্শগত বিতর্ক থাকবে, কিন্তু হিংস্রতা ও প্রতিহিংসার কোনো স্থান থাকবে না।

একজন শিল্পী হিসেবে পূর্ণী চান এমন এক দেশ, যা হবে শিল্প-সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ। যেখানে আধুনিকতার পাশাপাশি বাউলের সুরও বেঁচে থাকবে। পূর্ণীর আকাঙ্ক্ষা, আমি এমন বাংলাদেশ চাই যেখানে গান থাকবে, নাচ থাকবে, রং থাকবে, তুলি থাকবে। মসজিদ, মন্দির ও গির্জা থাকবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের প্রতীক হিসেবে। মানুষ শুধু বাঁচবে না, সুন্দরভাবে বাঁচবে। এমনকি পশুপাখি ও প্রকৃতিও থাকবে নিরাপদে।

ভোটের মাধ্যমেই আগামীর নেতৃত্ব এবং সমাজের গতিপথ নির্ধারিত হয় বলে বিশ্বাস করেন তিনি। তিনি স্পষ্ট করেন, তার ভোট দেওয়ার মাপকাঠি, আমার ভোট এমন প্রতিনিধি বা রাজনৈতিক শক্তির হাতে ন্যস্ত হবে, যারা জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেবে এবং শিক্ষা ও সামাজিক ন্যায়কে কেন্দ্রবিন্দুতে রাখবে। ভোট প্রদানের মধ্য দিয়ে আমরা কেবল সরকার নির্বাচন করি না, বরং একটি সমাজের মূল্যবোধ নির্ধারণ করি।

পূর্ণীর স্বপ্ন, বাংলাদেশ হবে একটি মূল্যবোধভিত্তিক, সহনশীল ও মানবিক রাষ্ট্র। যেখানে মানুষ ও প্রকৃতি নির্ভয়ে এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে মিলেমিশে থাকবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102