গাজীপুরের শ্রীপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে এক কনস্টেবল ছুরিকাহতসহ মোট চারজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় পুলিশের দুটি গাড়ি ও একটি সিএনজি ভাঙচুর করা হয়।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার মাওনা পিয়ার আলী কলেজের উত্তর পাশে এ ঘটনা ঘটে।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- কনস্টেবল মোশারফ হোসেন, উপপরিদর্শক (এসআই) অরূপ কুমার বিশ্বাস, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মাসুদ ও কনস্টেবল আজিজুল ইসলাম। আহতদের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্রীপুর থানা পুলিশের একটি দল ওই এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় লাকি আক্তারসহ কয়েকজনকে আটক করা হলে তাদের সহযোগীরা অতর্কিতভাবে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা পুলিশের ব্যবহৃত দুটি গাড়ি ও একটি সিএনজি ভাঙচুর করে। এ সময় কনস্টেবল মোশারফ হোসেন ছুরিকাহত হন।
খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান জোরদার করে। পরে ওই এলাকা থেকে ১০ জনকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩০ পিস ইয়াবা ও তিনটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন- লাকি আক্তার (২৮), জামাল (৩৫), কামাল (৪৩), আসিফ (২০), লিমন (১৮), আক্কাস (২৯), মুন্না (২০), ফয়জুল্লাহ (২৬), আশিক (২৪) ও শিল্পী (২৫)।
ঘটনার সময় পলাতক আসামি রাজিবকে (৩০) পরদিন (১ জানুয়ারি ২০২৬) দিনের বেলায় অভিযান পরিচালনা করে শ্রীপুরের মাওনা এলাকা থেকে আটক করা হয়। এ নিয়ে মোট ১১ জনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, জাহাঙ্গীর, রাজিব ও লাকি- এই তিনজন দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।এ ঘটনায় শ্রীপুর থানায় দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে এসআই অরূপ কুমার বিশ্বাস বাদী হয়ে পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও ভাঙচুরের অভিযোগে অজ্ঞাতনামা ৮০-৯০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। অপর মামলাটি দায়ের করা হয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে, যেখানে আটক ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।
শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকবিরোধী অভিযানে গেলে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলার মুখে তাৎক্ষণিকভাবে তিনজনকে আটক করা হলেও দুজন পালিয়ে যায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে অভিযান জোরদার করা হলে ইয়াবা ও মোটরসাইকেলসহ ১০ জনকে আটক করা সম্ভব হয়। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।