সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে নূপুর চুরির অপবাদে কিশোরকে তুলে নিয়ে দোকানঘরে বেঁধে রেখে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় থানা পুলিশ অভিযুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
কিশোরের নাম হাফিজ উদ্দিন। সে উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নর সীমান্তগ্রাম পুরান লাউড়গড়ের মৃত আব্দুল কুদ্দুছের ছেলে।
প্রসঙ্গত, কয়েক মাস আগে লাউড়গড় গ্রামের আমির উদ্দিনের শিশুকন্যার এক পায়ের রুপার একটি নূপুর খোয়া যায়।এরই জের ধরে সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার সীমান্ত বাজার লাউরগড়ের মৃত আহামদ আলীর ছেলে আমিরের নেতৃত্বে কিশোর ফিরোজকে তুলে নিয়ে একটি দোকানের ভেতর বেঁধে রেখে নির্যাতনের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করে আমির, তার ছেলে ও এলাকার লোকজন।
নির্যাতনকারীরা কিশোরের হাত ও পায়ের নখের ভেতর, শরীরের বিভিন্ন অংশে সুই ঢুকিয়ে, প্লাস দিয়ে চেপে চেপে, দফায় দফায় মারধর করতে থাকে। এতে দুবার জ্ঞান হারায় হাফিজ। এরপরও দুর্বৃত্তরা শরীরের ক্ষতস্থানে ফ্রিজে থাকা ঠান্ডা পানি ফেলে নূপুর চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা অব্যাহত রাখে।
খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন ওই ওয়ার্ডের বর্তমান ও সাবেক ইউপি সদস্য এবং সালিশদারদের নিয়ে কিশোরকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঘটনার রাতেই বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) নির্যাতিত কিশোরের চাচা আব্দুর রহমান নির্যাতনকারী লাউড়গড় সীমান্ত গ্রামের আমির উদ্দিন, তার ছেলে সফিকুল, তরিকুল, একই গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে রাকিবসহ অজ্ঞাতনামা ২-৩ জনের নামে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।অভিযোগের পরপরই মঙ্গলবার রাতে থানার বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা অভিযুক্ত আমিরকে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগটি থানায় মামলা হিসেবে ডায়েরি করা হয়।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন বলেন, ‘আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এখতিয়ার রাষ্ট্র কাউকে দেয়নি। ওই কিশোরকে নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত অন্যদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে আদালতে চার্জশিট দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।