তুরস্কের ফুটবলে জুয়া ও ম্যাচ পাতানোর কেলেঙ্কারি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সর্বশেষ অভিযানে ১৪ জন ফুটবলারসহ মোট ২৯ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ইস্তাম্বুলের প্রসিকিউটর দপ্তর। এর মধ্যে ২৪ জনকে ইতোমধ্যে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত নভেম্বরের শুরুতে একই কেলেঙ্কারিতে ছয়জন রেফারি এবং শীর্ষ লিগের ক্লাব আইয়ুপস্পরের সভাপতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
প্রসিকিউটর দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে তুরস্কের জনপ্রিয় ক্লাব গালাতাসারায়ের সাবেক সভাপতি এরদেন তিমুর, আইয়ুপস্পরের সহ-সভাপতি ফাতিহ কুলাকসিজ, তুর্কি ফুটবল ফেডারেশনের (টিএফএফ) একজন পরিচালক, কয়েকজন ব্যবসায়ী এবং একজন সাবেক পুলিশ সদস্য রয়েছেন।জানা গেছে, ছয়জন অভিযুক্ত ২০২৪ সালের ২৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত কাসিমপাসা–সামসুনস্পোর ম্যাচের ফল প্রভাবিত করার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এছাড়া ১৪ জন ফুটবলার নিজের দলের বিপক্ষে খেলায় প্রতিপক্ষ দলের জয়ে বাজি ধরেন, যা ম্যাচের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রসিকিউটর দপ্তর জানায়, অভিযুক্তদের ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনক লেনদেন ধরা পড়েছে। এসব লেনদেনের মধ্যে রয়েছে জুয়া-সংশ্লিষ্ট অর্থ আদান–প্রদান, অর্থের উৎস গোপন করার চেষ্টা এবং অস্বাভাবিক আর্থিক কার্যক্রম।
এটি ক্রীড়া বাজি সংক্রান্ত তুরস্কের ফুটবলে তৃতীয় দফার বড় অভিযান বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে তুর্কি ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, তারা দেশটির ফুটবলকে ‘পরিষ্কার’ করতে চায়। এর অংশ হিসেবে গত মাসে ম্যাচে জুয়া খেলার দায়ে ১৫০ জন রেফারিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
পাশাপাশি প্রথম বিভাগের ২৫ জন ফুটবলার এবং দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বিভাগের প্রায় এক হাজার খেলোয়াড়কে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।