‘লটারির মাধ্যমে বন্দি মুক্তি’— এমন ভুয়া প্রলোভন দেখিয়ে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র কারাবন্দিদের স্বজনদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি সিলেটের একটি ঘটনায় এ ধরনের প্রতারণার তথ্য সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।
কারা ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, চেক ডিজঅনার মামলায় ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত সিলেট নগরীর সোনা পাড়া এলাকার বাসিন্দা নোমান আহমদ (ছদ্মনাম) বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তিনি কারাগারে থাকা অবস্থায় লোক মারফতে পরিবারকে জানান, নির্দিষ্ট 01727390510 বিকাশ নম্বরে ৫ হাজার টাকা পাঠালে নাকি ‘লটারির মাধ্যমে’ তাকে নির্বাচিত করে তিন মাসের সাজা কমিয়ে মুক্তি দেওয়া হবে।পরবর্তীতে তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার কারাগারে দেখা করতে গেলে একই দাবি পুনরায় করা হয়। বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য করতে কারারক্ষীর মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করানোর কথাও বলা হয়।ভুক্তভোগী পরিবারের এক সদস্য জানান, কারাগারে থাকা স্বজনের কথায় তারা মানসিকভাবে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। পরে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে খোঁজ নিয়ে প্রতারণার আশঙ্কা তৈরি হয়।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চেক ডিজঅনার মামলা নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারায় পরিচালিত হয়। এ আইনে সাজা কমানো বা মওকুফের ক্ষেত্রে আদালতের রায়, আপিল, জামিন বা রাষ্ট্রপতির ক্ষমা ছাড়া অন্য কোনো আইনগত সুযোগ নেই। কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বা অর্থের বিনিময়ে সাজা কমানোর কোনো বিধান নেই।
ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বন্দিদের স্বজনদের অসহায় অবস্থাকে কাজে লাগিয়ে প্রতারক চক্র এ ধরনের ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে।
নোমান আহমদের স্ত্রী বলেন, ‘স্বামী কারাগারে, ছোট ছোট সন্তান নিয়ে আমি খুব অসহায় অবস্থায় আছি। ও যখন বলল টাকা দিলে নাকি মুক্তি পাওয়া যাবে, তখন মনে হয়েছিল, হয়তো আল্লাহ একটা পথ খুলে দিচ্ছেন। শেষ সম্বল যা ছিল, সেটুকু দিয়েই স্বামীকে ফেরত পাওয়ার আশায় ছিলাম। পরে জানতে পারি, এটা প্রতারণা। তখন বুকের ভেতরটা ভেঙে গেছে। আমাদের মতো অসহায় মানুষের সঙ্গে এমন প্রতারণা খুব কষ্টের।’
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ বলেন, একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র নিজেদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিচয় দিয়ে ‘লটারির মাধ্যমে বন্দি মুক্তি’-র ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে বন্দিদের আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে অর্থ দাবি করছে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বন্দি মুক্তির ক্ষেত্রে লটারির কোনো বিধান বা কার্যক্রম নেই এবং এ ধরনের কোনো উদ্যোগ কারা কর্তৃপক্ষের আওতায় নেই। এসব দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা, অবৈধ ও প্রতারণামূলক।
একই সঙ্গে কারা অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ ধরনের প্রলোভনে বিভ্রান্ত না হয়ে যেকোনো তথ্য যাচাই করতে কিংবা কেউ প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত কারাগারের হটলাইন নম্বর ১৬১৯১-এ যোগাযোগ করার জন্য।
কারা কর্তৃপক্ষের মতে, আইন সম্পর্কে সচেতনতা ও দ্রুত তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে এ ধরনের প্রতারণা প্রতিরোধ করা সম্ভব।