রাঙামাটি শহরের পুরাতন বাসস্টেশন এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চারটি দোকান ও তিনটি যাত্রীবাহী বাস সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিবাগত রাত ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে রাঙামাটি শহরের পুরাতন বাসস্টেশন এলাকায় এই আগুনের সূত্রপাত ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই এলাকার একটি ফার্নিচারের দোকানে ব্যবহৃত মশার কয়েল থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পাশের দোকান ও যাত্রীবাহী বাসে ছড়িয়ে পড়ে।
আগুন লাগার খবর পেয়ে স্থানীয় দোকানদার ও বাস শ্রমিকরা প্রাথমিকভাবে পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালান। পরে খবর পেয়ে রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত জেনারেটর দোকানের মালিক ছোটন দাশ জানান, তার দোকানে প্রায় ৫০টি জেনারেটর মজুত ছিল এবং পুরাতন জেনারেটর মেরামতের কাজ চলত। সব মিলিয়ে তার প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই আগুনে তাকে সর্বস্বান্ত করে দিয়েছে। কান্নায় ভেঙে পড়ে ছোটন দাশ।
ব্যবসায়ী মো. আবু হান্নান বলেন, আগুনে তার দোকান ও একটি গাড়ি সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। এতে তার আনুমানিক ৩০-৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তার জীবনের সব আশা-ভরসা কেড়ে নিয়েছে আগুনে। তার জীবন-জীবিকা নির্বাহে আর কোনো উৎস নেই। বর্তমানে হান্নান পথের ফকির হয়ে গেছে।
এ ছাড়া ০৪০১১৮ নম্বর বাসের মালিক জামাল উদ্দিন জানান, তার বাসসহ মোট তিনটি বাস আগুনে পুড়ে গেছে। এতে তাদের মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় এক কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তার দাবি জানান।তবে এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া না গেলেও ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে ব্যবসায়ী ও পরিবহন মালিকরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আগুনের সঠিক কারণ জানতে তদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কোতোয়ালি থানার ওসি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, শনিবার সকালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পুলিশ সুপার। আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি, এই অগ্নিকাণ্ড কোনো নাশকতা নয়। এটি শর্টসার্কিট বা মশার কয়েল থেকে হতে পারে।
ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোশের্দুল ইসলামকে মুঠোফোনে তথ্য জানতে ফোন দেওয়া হলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন। তাই ফায়ার সার্ভিসের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে ফোন দেবেন বলে তাও দেননি।