শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:১৭ পূর্বাহ্ন

হাদিকে গুলি করা পিস্তল এসেছে ভারত থেকে

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় ৭.৬৫ ক্যালিবার পিস্তল ব্যবহার করা হয়েছে।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) ক্রাইম সিন ইউনিট ও সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে এ তথ্য জানা গেছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ৭.৬৫ মিমি একটি তুলনামূলকভাবে আনকমন রাউন্ড, যা বাংলাদেশে সচরাচর দেখা যায় না। তবে ভারতের অপরাধ জগতে এই ক্যালিবারের পিস্তল দীর্ঘদিন ধরেই বহুল আলোচিত ও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত। অপরাধে এর ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় ভারতীয় প্রশাসনও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশের অপরাধ জগতে সাধারণত সন্ত্রাসীরা যে অস্ত্রগুলো ব্যবহার করে, সেগুলোর ক্যালিবার মূলত ৯ মিমি ও ৭.৬২ মিমি। সেই প্রেক্ষাপটে ৭.৬৫ মিমি বুলেটের উপস্থিতি বিশেষভাবে নজরে এসেছে।

সিআইডির প্রাপ্ত তথ্যে বুলেটের ক্যালিবার বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে যে, গতকাল হাদির ওপর যে পিস্তল থেকে গুলি ছোড়া হয়েছে, সেই অস্ত্রটি ভারত থেকে এসেছে। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো এই ধরনের কত অস্ত্র অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, এবং সেগুলো কার কার হাতে রয়েছে। বিষয়টিই বর্তমানে আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তীতে বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত জেলাগুলোতেও ৭.৬৫ ক্যালিবারের পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম অন্যতম। সবচেয়ে বড় ফায়ারিংটা হলো গতকাল রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র সচিবালয় থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার এলাকার মধ্যে ওসমান হাদির ওপর।

৭.৬৫ মিমি হলো .৩২ এসিপি (অটোমেটিক কোল্ট পিস্তল) রাউন্ড। এটা বাংলাদেশের এনপিবি (নন-প্রোহিবিটেড বোর), তথা এই রাউন্ডের পিস্তল বেসরকারি ব্যক্তিও লাইসেন্স নিতে পারে। তবে তা শুধুমাত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি ও জেলা প্রশাসনের অনুমতির ভিত্তিতে। এ ক্ষেত্রে ২০১৬ সালে প্রণীত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘অগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা’ বেশ কড়াকড়ি।এদিকে, রোববার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেলে এভারকেয়ার হাসপাতালের আইসিইউ ও এইচডিইউ কো-অর্ডিনেটর এবং সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মো. জাফর ইকবাল স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলেন, এভারকেয়ার হাসপাতালের ক্রিটিকাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন হাদির সর্বশেষ সিটি স্ক্যানে দেখা গেছে, তার মস্তিষ্কের ফোলা আগের তুলনায় আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ক্লিনিক্যাল পরিস্থিতি।

মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্রেন স্টেমে আঘাত এবং বাড়তি সেরিব্রাল ইডেমার কারণে রোগীর রক্তচাপে ওঠানামা হচ্ছে। একইসঙ্গে আজ তার হৃদস্পন্দনও স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি। তবে রক্তচাপ ও হৃদযন্ত্রের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় মেডিকেল সাপোর্ট অব্যাহত রয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হাদির কিডনির কার্যক্ষমতা আপাতত বজায় আছে এবং ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা কিছুটা কমেছে। তবে ব্রেন ইনজুরির কারণে শরীরের হরমোনগত ভারসাম্যহীনতা দেখা দেওয়ায় প্রতি ঘণ্টায় ইউরিন উৎপাদনে তারতম্য হচ্ছে। এজন্য এসিড-বেস ব্যালেন্স, ফ্লুইড ও ইলেক্ট্রোলাইট নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এতে বলা হয়েছে, রক্ত জমাট বাঁধা ও রক্তক্ষরণের ভারসাম্যহীনতা বর্তমানে অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। একই সঙ্গে ব্লাড সুগার সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে, যা এ ধরনের সংকটাপন্ন রোগীর ক্ষেত্রে একটি বড় ক্লিনিক্যাল চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে ফুসফুসের কার্যকারিতা ও ভেন্টিলেটর সাপোর্ট বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নতি বা অবনতি হয়নি। চেস্ট ড্রেইন টিউব সচল রয়েছে বলে জানিয়েছে মেডিকেল বোর্ড।

মেডিকেল বোর্ড জানিয়েছে, ওসমান হাদির সার্বিক অবস্থা এখনো অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তবে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও সমন্বয়ের মাধ্যমে তাকে সর্বোত্তম চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসকরা। পরিবার অথবা পরিবারের মাধ্যমে সরকার চাইলে তাকে দেশের বাইরে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও মেডিকেল বোর্ড সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলেও জানানো হয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102