জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সমালোচনা করে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের (বর্তমান গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি) ঢাবি শাখার সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল কাদের বলেছেন, তিনি খড়কুটো ধরে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন এবং জোটের নির্দেশনা মেনে চলছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাতে সমাজিকে যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
কাদের বলেন, আজকের জামায়াতের নির্বাচনি সমাবেশে নাহিদ ইসলাম কেবল প্রতিপক্ষের সমালোচনা করেছেন, কিন্তু নিজের দল কী করবে বা নির্বাচনে কোন কৌশল অবলম্বন করবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি। তিনি বিএনপি ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড এবং তারেক রহমানের ‘প্ল্যান’ নিয়ে অযথা ব্যক্তি আক্রমণ চালিয়েছেন। নিজের দলের বিষয়ে নাহিদ স্বীকার করেছেন, ‘আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আপনারা দশ দলীয় জোটকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচিত করুন, আমরা নতুনভাবে দেশ গড়ব।’
কাদের বলেন, জামায়াতের উদ্দেশ্য আসলেই সফল হয়েছে। তারা নিজেরা মুখে কিছু বলছে না, বরং নাহিদদের মাধ্যমে বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। একটি পার্টির আহ্বায়ক হয়ে নাহিদদের এমন বক্তব্য দেওয়া কাম্য নয়। তবে পরিস্থিতি এমন যে, খড়কুটো ধরে টিকে থাকার চেষ্টা করতে গিয়ে তারা যা হুকুম দেওয়া হচ্ছে, তা পালন করছেন।
তিনি আরও জানান, জামায়াত-শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এনসিপি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। শিবিরের উদ্বেগ, অভ্যুত্থানের পর এনসিপির নেতারা শিবিরের সঙ্গে কীভাবে আচরণ করেছেন এবং ভবিষ্যতে তা পুনরায় ঘটবে কি না। এজন্য নির্বাচনি প্রচারণায় এনসিপি জোটকে সাপোর্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে শিবিরের কঠোর আপত্তি রয়েছে।
কাদের বলেন, ‘নাহিদদের এই ঘাটতি বা আস্থা অর্জনের প্রয়াসের কারণে অনেকসময় দেখা যায় এনসিপি নেতা জামায়াতের চেয়ে বড় জামায়াতি হয়ে ওঠেন, দলের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেন। হয়তো এতে কিছু আসন পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এনসিপির রাজনৈতিক স্বীকৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জনগণের আস্থা তলানিতে যাবে, এবং খোদ জামাত-শিবিরের আস্থা কুড়াতে পারবে কি না তাতেও সন্দেহ আছে।’
এর আগে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানের তথাকথিত ধারক-বাহকরা মাঠে নামছেন। জনগণ ইতোমধ্যেই আপনাদের কার্যকলাপ দেখেছে, হতাশ হয়েছে, বিরক্তও। প্রতিপক্ষের নামে to যা অভিযোগ করছেন, সেসবের দায় আপনাদের নামেও আছে। নতুন বন্দোবস্তের বুলি দিয়ে শেষ পর্যন্ত কেবল নিজের স্বার্থে পুরাতন পরিকল্পনার কোলে ঢুকে পড়েছেন। এই অবস্থায় জনগণ আপনাদের আবার ক্ষমতায় বসাবে কেন?’