জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত একাধিক নেতাকর্মী প্রাণনাশের হুমকি ও হামলার শিকার হচ্ছেন- এমন অভিযোগ সামনে এসেছে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দুষ্কৃতকারীদের তৎপরতাও বাড়ছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ প্রেক্ষাপটে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, ১১ নভেম্বর আওয়ামী লীগের একজন নেতার ফেসবুক পোস্টে জুলাই বিপ্লবীদের কয়েকজনকে ‘পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার’ উস্কানি দেওয়া হয়। ওই পোস্টে ওসমান হাদির নামের পর সালাহউদ্দিন আম্মারের নামও উল্লেখ ছিল। এরই মধ্যে হাদির ওপর ভয়াবহ হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে। এতে করে পরবর্তী টার্গেট হিসেবে আম্মারকে ঘিরে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আম্মার দাবি করেন, তিনি দেশি-বিদেশি নানা মাধ্যম থেকে নিয়মিত হত্যার হুমকি পাচ্ছেন। এ বিষয়ে আমার দেশ-কে তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন শতশত ম্যাসেজ ও কল আসছে। হুমকির সঙ্গে আব্বু-আম্মুর ছবিও পাঠানো হচ্ছে। এতে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি, তবে ভীত নই। এখনো নম্বর পরিবর্তন করিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এবং ইনসাফের পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাব। পিছু ফেরার সুযোগ নেই। আল্লাহর জান আল্লাহ নেবেন- আজ হোক বা কাল। আমার কিছু হলে আব্বু-আম্মুকে দেখে রাখবেন।’
এদিকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আসাদুলা-হিল-গালিবের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেখানে তিনি আম্মারকে উদ্দেশ করে ‘কেউ কিছু করবেন না’-এমন মন্তব্যের পাশাপাশি সতর্কতামূলক ভাষায় চলাফেরা সংক্রান্ত পরামর্শ দেন, যা অনেকেই হুমকি হিসেবে দেখছেন।
আরও একটি ফেসবুক আইডি থেকে ৯ নভেম্বর দেওয়া পোস্টে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ‘পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার’ কথা বলা হয়- যাকে উস্কানিমূলক বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল হক বলেন, ‘বিপ্লব পরবর্তী সময়ে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্তরা নানা হুমকি ও আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। তাদের নিরাপত্তা জোরদারে সরকারের জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন। তা না হলে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।’
সালাহউদ্দিন আম্মারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে- এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।