রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন

এসএসসির খাতা পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ, ফেল থেকে পাস ৪,৫৮৫

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ফেল করা ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী পাস করেছেন। পাশাপাশি নতুন করে জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন ৩ হাজার ৭৯ জন। এর বাইরে বিভিন্ন বিষয়ে আরও অনেক শিক্ষার্থীর ফলাফলে পরিবর্তন এসেছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়। আবেদনকারীদের নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরেও এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নির্ধারিত ওয়েবসাইট rescrutiny.eduboardresults.gov.bd-এ প্রবেশ করেও ফলাফল দেখা যাচ্ছে।

এর আগে গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার মূল ফল প্রকাশ করা হয়। সেই হিসাবে মূল ফল প্রকাশের ৩১ দিন পর পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ হলো। আর পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন গ্রহণ শেষ হয় ১৭ আগস্ট রাতে। অর্থাৎ আবেদন শেষ হওয়ার ২৪ দিন পর প্রকাশ করা হলো সংশোধিত ফল।

এবার পুনঃনিরীক্ষণের জন্য রেকর্ডসংখ্যক আবেদন জমা পড়ে। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন। একজন পরীক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের উত্তরপত্রের জন্য আবেদন করতে পারায় মোট উত্তরপত্রের সংখ্যা পরীক্ষার্থীর সংখ্যার চেয়ে বেশি হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষার ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা হয়। সব মিলিয়ে আবেদন করা উত্তরপত্রের সংখ্যা দাঁড়ায় ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি।

এবার পুনঃনিরীক্ষণের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হয়। বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছিলেন, এবার শুধু নম্বর যোগের ভুল খোঁজা নয়, আবেদন করা উত্তরপত্র পুনরায় মূল্যায়নও করা হয়েছে।

আগের নিয়মে সাধারণত উত্তরপত্রে নম্বর দেওয়ার পর যোগফলে কোনো ভুল হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হতো। পুরো খাতা নতুন করে মূল্যায়নের সুযোগ ছিল না। তবে এবার আবেদন করা উত্তরপত্র পুনরায় মূল্যায়নের মাধ্যমে ফল যাচাই করা হয়েছে।

বোর্ডভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন পড়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এই বোর্ডে ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষার ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ৫৮ হাজার ১২টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেন।

এছাড়া কুমিল্লা বোর্ডে ৩৫ হাজারের বেশি, রাজশাহীতে ৩৯ হাজারের বেশি, যশোরে ২৮ হাজারের বেশি, চট্টগ্রামে ৩৯ হাজারের বেশি, বরিশালে ১৭ হাজারের বেশি, সিলেটে ২০ হাজারের বেশি, দিনাজপুরে ৩৭ হাজারের বেশি এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ২৭ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন।

মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ৪০ হাজারের বেশি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী ফল পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছিলেন।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সার্বিক পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত ১৯ বছরের মধ্যে এটিই ছিল সর্বনিম্ন পাসের হার। মূল ফল প্রকাশের পর ফলাফল নিয়ে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাতা পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন। বিপুলসংখ্যক আবেদনের পর আজ প্রকাশ করা হলো সেই পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102