মহানবীর (সা.) প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অন্যতম একটি মাধ্যম দরুদ পাঠ। মহানবী (সা.) নিজেই আমাদেরকে দরুদ পাঠ করতে ও দরুদ পাঠের পদ্ধতি শিখিয়েছেন।
আরেক হাদিসে মহানবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার প্রতি দশবার রহমত বর্ষণ করেন, তার দশটি গুনাহ মুছে দেন এবং তার মর্যাদা দশ ধাপ বৃদ্ধি করেন। (সুনানে নাসায়ি)
হাদিসে বর্ণিত ১০টি ছোট দরুদ তুলে ধরা হলো:
১. দরুদে আল্লাহর নৈকট্য প্রার্থনা
اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ وَّأَنْزِلْهُ الْمَقْعَدَ الْمُقَرَّبَ عِنْدَكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আনজিলহুল মাক্বআদাল মুক্বাররাবা ঈনদাকা ইয়াওমাল ক্বিয়ামাহ।’
অর্থ: হে আল্লাহ! মুহাম্মদ (স.)-এর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন এবং কেয়ামত দিবসে তাকে সমাসীন করুন আপনার নৈকট্যপ্রাপ্ত আসনে। (তবারানি, হাদিস : ৪৪৮০)
২. দরুদে মুসলিমদের জন্য রহমত কামনা
اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ عَبْدِكَ وَرَسُوْلِكَ وَصَلِّ عَلٰى الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَالْمُسْلِمِيْنَ وَالْمُسْلِمَاتِ
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন আবদিকা ওয়া রাসূলিকা, ওয়াসাল্লি আলাল মু’মিনীনা ওয়াল মু’মিনাত ওয়াল মুসলিমীনা ওয়াল মুসলিমাত।
অর্থ: হে আল্লাহ! রহমত বর্ষণ করুন আপনার বান্দা ও রাসুল মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি এবং সকল মুমিন ও মুসলিম নর-নারীর প্রতি। (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস : ৯০৩)
৩. নবীজির জন্য রহমত কামনা
اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ وَّسَلِّمْ
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন ওয়াসাল্লিম।’
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! মুহাম্মদ (স.)-এর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ২৬৪১৬)
. বরকত কামনা
اَلسَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهٗ
উচ্চারণ: ‘আসসালামু আলাইকা আয়্যুহান নাবিয়্যু ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু।’
অর্থ: ‘আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক হে নবী! এবং বর্ষিত হোক আল্লাহর রহমত ও বরকত।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৩১)
৫. নবী মুহাম্মদের জন্য শান্তি কামনা
صَلَّى اللهُ عَلَى النَّبِيِّ مُحَمَّدٍ
উচ্চারণ: ‘সাল্লাল্লাহু আলান্নাবিয়্যি মুহাম্মাদিন।’
অর্থ: ‘আল্লাহ রহমত বর্ষণ করুন নবী মুহাম্মদ (স.)-এর প্রতি। (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ১৭৪৬)
৬. নবী মুহাম্মদ ও ইব্রাহিমের (আ.) পরিবারের জন্য রহমত কামনা
اَللّٰهُمَّ اجْعَلْ صَلَوَاتِكَ وَبَرَكَاتِكَ عَلٰى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا جَعَلْتَهَا عَلٰى آلِ إِبْرَاهِيْمَ، إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মাজআল সালাতিকা ওয়াবারাকাতিকা আলা আ-লে মুহাম্মাদিন কামা জাআলতাহা আলা আ-লে ইবরাহীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।’
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনার রহমত ও বরকত দান করুন মুহাম্মদ (সা.)-এর পরিবারবর্গকে, যেমন দান করেছেন ইবরাহিম (আ.)-এর পরিবারবর্গকে। আপনি নিঃসন্দেহে অতি প্রশংসিত, মহিয়ান।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হাদিস : ৮৭২৬)
৭. নবী মুহাম্মদের (সা.) পরিবারের জন্য শান্তি কামনা
اَللّٰهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ عَلٰى مُحَمَّدٍ وَّعَلٰى آلِ مُحَمَّدٍ
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি ওয়াসাল্লিম আলা মুহাম্মাদিন ওয়াআলা আ-লি মুহাম্মাদ।’
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আপনি রহমত ও প্রশান্তি অবতীর্ণ করুন মুহাম্মদ (স.)-এর উপর এবং তার পরিবারবর্গের উপর।’ (আল আযকার নাববি, ১৭৭)
৮. নবীর ওপর দরুদ
صَلّى اللهُ عَلٰى النَّبِيِّ وَسَلَّمَ
উচ্চারণ: ‘সাল্লাল্লাহু আলান্নাবিয়্যি ওয়াসাল্লাম।’
অর্থ: ‘রহমত ও শান্তি অবতীর্ণ হোক নবীজির ওপর।’ (নাতাইজুল আফকার)
৯. বরকত লাভের দরুদ
اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلٰى آلِ إِبْرَاهِيْمَ، اَللّٰهُمَّ بَارِكْ عَلٰى مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلٰى آلِ إِبْرَاهِيْمَ
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহীম, আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা আলা ইবরাহীম।’
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ (স.)-এর উপর রহমত নাজিল করুন, যেমন রহমত নাজিল করেছেন ইবরাহিম (আ.)-এর পরিবারবর্গের উপর।’ ( নাসাঈ, হাদিস : ৯৭৯৬)
১০. উম্মী নবী মুহাম্মদের (সা.) উপর দরুদ
اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ النَّبِيِّ الأُمِّيِّ
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি।’
অর্থ: ‘হে আল্লাহ, আপনি উম্মী নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর উপর রহমত বর্ষণ করুন।’ (আততারগিব ওয়াত তারহিব)