প্রশ্ন: পালিয়ে বিয়ে করলে কি বিয়ে শুদ্ধ হয়, নাকি পরে আবার নতুন করে বিয়ে করতে হয়?
উত্তর: পালিয়ে বিয়ে করলেই বিয়ে অবৈধ হয়—এমন নয়। ইসলামে বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে নিকাহর শর্ত পূরণ হয়েছে কি না, তার ওপর; পালিয়ে যাওয়া বা পরিবারের অমতে হওয়া বিয়ে একমাত্র নির্ধারক নয়।
দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক ও বিবাহযোগ্য নারী-পুরুষ যাদের মধ্যে বিয়ে হারাম নয় এবং নারী অন্য কারো সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ নয়, তারা যদি দুইজন পুরুষ সাক্ষী অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী সাক্ষীর সামনে যথাযথ পদ্ধতিতে ইজাব-কবুল করে, তাহলে হানাফি মাজহাব অনুযায়ী বিয়ে শুদ্ধ হয়ে যায়।
তবে মনে রাখা দরকার, ইসলামে বিয়ে একটি মহৎ ইবাদত, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এবং পারিবারিক ও সামাজিক বিষয়। তাই বিয়ে বাবা-মা-সহ পরিবারের মুরুব্বিদের পরামর্শে ও তত্ত্বাবধানে করাই সমীচীন। বিশেষত নারীর জন্য বাবা, ভাই বা তাদের অবর্তমানে অন্য অভিভাবকের মতামত ছাড়া বিয়ে করা কোনোভাবেই সমীচীন নয়। অনেক আলেমের মতে অভিভাবকদের মতামত ছাড়া বিয়ে করলে নারীর বিয়ে শুদ্ধ হয় না।
যেখানে দৈনন্দিন জীবনের ছোটখাটো যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও আমরা পরিবারের প্রবীণ ও অভিজ্ঞদের সাথে পরামর্শ করি, সেখানে বিয়ে যা মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুগম্ভীর, দূরদর্শী ও স্পর্শকাতর এক অধ্যায় তা পরিবারকে না জানিয়ে বা লুকিয়ে করার চিন্তা কীভাবে করা যেতে পারে?
বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ক্ষণিকের আবেগের চেয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি এবং পাত্র-পাত্রীর সামাজিক সমতার বিষয়গুলো অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পর্যালোচনা করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে নেওয়া একটি ভুল সিদ্ধান্ত জীবনের সম্মান ও শান্তি চিরতরে কেড়ে নিতে পারে।
তরুণ-তরুণীদের বোঝা দরকার যে, মা-বাবা কিংবা পরিবারের মুরুব্বিরা কখনোই তাদের অমঙ্গল চান না। তারা সন্তানের সুদূরপ্রসারী মঙ্গল, বিয়ের স্থায়িত্ব ও সামাজিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই অনেক সময় তরুণ বয়সের তাড়াহুড়ো বা পছন্দকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রহণ করতে পারেন না।
তাই তাদের আপত্তির কারণ তাৎক্ষণিকভাবে অনুধাবন না করতে পারলেও তরুণ-তরুণীদের উচিত তাদের অভিজ্ঞতা ও কল্যাণকামিতার ওপর ভরসা রাখা, বিয়ের জন্য তাড়াহুড়া না করা, প্রয়োজনে তাদেরকে আরও বুঝিয়ে তাদের সম্মতি ও দোয়া নিয়েই বিয়ে করা।