প্রচলিত ফসলের প্রথাগত ছক ভেঙে আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে মসলা চাষে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার তালোড়া ইউনিয়নের পুগোইল গ্রামের উদ্যমী কৃষক আব্দুল মজিদ হারুন। অনাবাদী জমিতে আধুনিক প্রযুক্তিতে আদা ফলিয়ে তিনি কেবল নিজের ভাগ্যের পরিবর্তনই ঘটাননি, বরং পুরো এলাকার কৃষকদের জন্য তৈরি করেছেন এক নতুন অনুপ্রেরণা।
হারুনের এই সাফল্যগাথার সূচনা চার বছর আগে। নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে তিনি প্রথম আধুনিক পদ্ধতিতে আদার বাণিজ্যিক চাষাবাদ সরেজমিনে দেখেন। সেখানে বস্তা ও নতুন প্রযুক্তিতে আদার চমৎকার ফলন দেখে উদ্বুদ্ধ হন তিনি। এরপরই নিজের এলাকায় ফিরে প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে আধুনিক উপায়ে আদা চাষের সিদ্ধান্ত নেন।
গত মৌসুমে নিজের ১৬ শতক অনাবাদী জমিতে আধুনিক উপায়ে আদা চাষ শুরু করেন হারুন। বীজ, সার, বালাইনাশক ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে তার মোট ব্যয় হয়েছিল মাত্র ২০ হাজার টাকা। মৌসুম শেষে তিনি প্রায় ৩০ মণ আদা পান। স্থানীয় বাজারে তা বিক্রি করে সব খরচ বাদ দিয়ে নিট ১ লাখ টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেন তিনি।
পূর্বের অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে চলতি মৌসুমে চাষের পরিধি বাড়িয়ে ২৫ শতক জমিতে উন্নীত করেছেন তিনি। সঠিক পরিচর্যা ও আধুনিক প্রযুক্তির কারণে মাঠে রোগবালাইয়ের প্রকোপ অন্যান্য ফসলের তুলনায় অনেকটাই কম। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং ক্ষেতের অবস্থা চমৎকার হওয়ায় এবার গতবারের চেয়েও বেশি ফলন ও লাভের আশা করছেন এই সফল কৃষক।
উদ্যোক্তা আব্দুল মজিদ হারুন জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের নিয়মিত তদারকি ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার নানা পরামর্শ আমাকে চাষবাসে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। কম খরচে ও অনাবাদী জমিতে এ পদ্ধতিতে আদা চাষ করে নিশ্চিত লাভ করা সম্ভব।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মামুন হোসেন বলে, আমরা নিয়মিত হারুনের আদা ক্ষেত পরিদর্শন করছি এবং গাছের সঠিক বৃদ্ধি ও পরিবেশবান্ধব বালাই ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের কারিগরি পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (কৃষিবিদ) মোহাম্মদ সাইফুল আবেদীন জানান, দানাদার বা প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি আদার মতো উচ্চমূল্যের মসলা জাতীয় ফসলের বাণিজ্যিক চাষ স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। আব্দুল মজিদ হারুনের এই সফলতা অঞ্চলের অন্যান্য কৃষকদেরও আধুনিক ও অর্থকরী ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করবে।