মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী শহীদ বীর উত্তম খাজা নিজামউদ্দিন ভূঁইয়া-র ৫৫তম শাহাদাতবার্ষিকী শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর। ১৯৭১ সালের এই দিনে সিলেটের কানাইঘাটে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে তিনি শহীদ হন।
মুক্তিযুদ্ধে সিলেট অঞ্চলের ৪ নম্বর সেক্টরের জালালপুর সাব-সেক্টরের যুদ্ধ পরিচালনায় প্রথমে সেকেন্ড-ইন-কমান্ড এবং পরে সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন খাজা নিজামউদ্দিন ভূঁইয়া। অসাধারণ নেতৃত্ব ও সাহসিকতার জন্য সহযোদ্ধারা তাকে স্নেহভরে ‘ক্যাপ্টেন নিজাম’ নামে ডাকতেন।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ৪ সেপ্টেম্বর কানাইঘাটের আটগ্রাম সড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধ্বংসের অভিযানে নেতৃত্ব দেন তিনি। অভিযানের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে তীব্র গোলাগুলিতে শত্রুপক্ষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও রণাঙ্গনেই শহীদ হন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।
শহীদ খাজা নিজামউদ্দিন ভূঁইয়ার সমাধি সিলেটের মোকামটিলায় অবস্থিত। তাঁর স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে ওই এলাকার নামকরণ করা হয়েছে নিজামনগর। স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৩ সালে তাকে ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত করে এবং ২০২৩ সালে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করে।
তাঁর জীবন ও মুক্তিযুদ্ধের অবদান নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে স্মারকগ্রন্থ ‘নিশ্চিত সংগ্রামের শপথ’, যা তার জীবন, সংগ্রাম ও স্মৃতিভিত্তিক একটি প্রামাণ্য দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়।
শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বীর উত্তমের ভাই এবং মাইলস্টোন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ লে. কর্নেল মোস্তফা কামালউদ্দিন ভূঁইয়া (অব.) দেশবাসীর কাছে তাঁর জন্য দোয়া কামনা করেছেন। তিনি বলেন, দিনটি পরিবারে শ্রদ্ধা ও গভীর আবেগের সঙ্গে পালন করা হয়।
এদিকে, শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বীর উত্তমের সমাধিস্থলে স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বীর উত্তম শহীদ খাজা নিজামউদ্দিন ভূঁইয়া স্মৃতি রক্ষা কমিটি। এতে মুক্তিযোদ্ধা, স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেবেন।