রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলায় দুই দেশেই অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে কয়েকজন শিশুও রয়েছে।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে রাশিয়া ও ইউক্রেন—উভয় দেশেই অন্তত ১১ জন করে মোট ২২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদার অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কনদ্রাতিয়েভ জানিয়েছেন, সোমবার (৩ আগস্ট) গেলেনঝিকের কাছে অবস্থিত পর্যটন গ্রাম আরখিপো-ওসিপোভকায় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন শিশু রয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রায় ৪০ জন।
এর আগে টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়ার মস্কো-সমর্থিত প্রশাসনের প্রধান সের্গেই আকসিওনভ জানান, সেখানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও দুজন।
এদিকে রাশিয়ার সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত গভর্নর আলেকজান্ডার শুয়ায়েভ জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন বসতিতে হামলায় চার বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে ইউক্রেনের দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের ক্রিভি রিহ জেলায় একটি পেট্রোলপাম্পে রাশিয়ার হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে এক জরুরি সেবাকর্মী এবং তার আট বছর বয়সী ছেলেও রয়েছে। যুদ্ধ চলাকালে অঞ্চলটি একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছে।
আঞ্চলিক গভর্নর ওলেক্সান্দর হানঝা টেলিগ্রামে জানান, হামলার পর সেখানে আগুন ধরে যায়। এতে পেট্রোলপাম্প এবং আশপাশে থাকা কয়েকটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ ছাড়া রাতভর চালানো আরেক হামলায় জাপোরিঝঝিয়ায় আটজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুটি শিশুও রয়েছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি বেড়েছে। তবে উভয় পক্ষই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
এদিকে সোমবার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের বাহিনী পূর্ব ইউক্রেনের খারকিভ অঞ্চলের বিলিই কোলোদিয়াজ এবং উসপেনিভকা নামের দুটি বসতি দখল করেছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনের সর্বশেষ হামলায় রাশিয়ার বৃহৎ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পূর্ব রাশিয়ার ভ্লাদিমির অঞ্চলের খ্রিয়াস্তোভো গ্রামের একটি গুদামে ড্রোন আঘাত হেনেছে।
কিয়েভ থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক অড্রি ম্যাকঅ্যালপাইন জানিয়েছেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় ওয়াইল্ডবেরিজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তার দাবি, স্বাধীন কয়েকটি পর্যবেক্ষক সংস্থার অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ওয়াইল্ডবেরিজে এমন বিভিন্ন পণ্য বিক্রি হয়, যেগুলো সামরিক ও বেসামরিক—উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা যায়। এসব পণ্যের মধ্যে ব্যবহৃত সামরিক হেলমেট, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট এবং ড্রোনে ব্যবহৃত ফাইবার-অপটিক কেবল রয়েছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে বৈঠক করেন জেলেনস্কি। বৈঠকটিকে তিনি ‘ভালো’ বলে মন্তব্য করেন। সে সময় ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চান তিনি। এর আগে গত শুক্রবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে ফোনালাপেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।
তবে ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের আগের প্রতিশ্রুতি থেকে তিনি সরে এসেছেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে।