বাংলা একাডেমি কর্তৃক আয়োজিত ‘নজরুল পুরস্কার ২০২৬’ পাচ্ছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নজরুল গবেষক, স্বরলিপিকার ও সংগীতজ্ঞ অধ্যাপক ড. রশিদুন্ নবী। তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের সাবেক শিক্ষক।
আগামী ২৩ শে মে বিকাল ৩ টায় বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে এই পুরস্কার প্রদান করা হবে। ২০ মে দুপুরে বাংলা একাডেমি প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানা যায়।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নজরুল গবেষক, স্বরলিপিকার ও সংগীতজ্ঞ ড. রশিদুন নবী ১৯৫৭ সালের ১ জানুয়ারি মাগুরার শালিখা উপজেলার দরিখাটোর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। সংগীতে দীক্ষা নেন ওস্তাদ ফুল মোহাম্মদ, শেখ লুতফর রহমান, সুধীন দাশ ও খালিদ হোসেনের মতো গুণীজনের কাছে।
১৯৮০ সাল থেকে তিনি নজরুল গবেষণায় আত্মনিয়োগ করেন এবং ১৯৮৯ সালে কবি নজরুল ইনস্টিটিউটে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে ২০০৭ সালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন এবং পরবর্তীতে অধ্যাপক (গ্রেড-১) পদে উন্নীত হন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অবসর গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত তিনি সংগীত বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন বিভাগীয় প্রধান, দোলনচাঁপা হলের প্রতিষ্ঠাকালীন প্রভোস্ট ও আইকিউএসি’র প্রতিষ্ঠাকালীন পরিচালকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
শিক্ষকতা জীবনে তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসারও শিকার হন। তৎকালীন সরকারের দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও আদালতের লড়াই শেষে প্রশাসন সেই আদেশ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়।
বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের নজরুলসংগীত শিল্পী ও সংগীত পরিচালক হিসেবে কর্মরত। তার রচিত গবেষণাগ্রন্থ, স্বরলিপি গ্রন্থ, প্রবন্ধ ও সম্পাদিত বই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। নজরুল গবেষণায় অবদানের জন্য তিনি ‘নজরুল পুরস্কার ২০১৭’, ‘কবি নজরুল স্মৃতি পদক ২০১৭’, ‘নজরুল পুরস্কার ২০১৮’ ও ‘নজরুল পদক ২০২৫’সহ দেশ-বিদেশের বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
অধ্যাপক ড. রশীদুন্ নবী নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বাংলা পোস্টকে বলেন, আমি প্রথমেই সকলের দোয়া চাই। যেকোনো পুরস্কার পাওয়া অবশ্যই আনন্দের। পুরস্কার পাওয়া কাজের স্বীকৃতি। এটা কাজের গতি বাড়ায়। সারাজীবন নজরুলকে নিয়েই চললো আমার। প্রায় ৪ যুগ ধরে আমি নজরুলকে নিয়ে গবেষণার কাজ করছি। সামনে আরও কাজ করে যাব ইনশাআল্লাহ। আর মান সম্মান দেওয়ার মালিক তো উপরওয়ালা করুণাময়। আমি যেন এই সম্মান ধরে রাখতে পারি, সেই দোয়া চাই সকলের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের নজরুল সংগীতের শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক আশিক সরকার বলেন, আমি নবী স্যারের সাবেক শিক্ষার্থী। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের ছাত্র। তাকে পরবর্তীতে আমার সহকর্মী হিসেবেও পেয়েছি। তার এই প্রাপ্তি আমাদের সকলের জন্য অত্যন্ত গর্বের।
তিনি দেশী বিদেশী অনেক পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি যেভাবে নজরুলচর্চাকে সমৃদ্ধ করেছেন, তা আমাদের প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করে। তার মতো একজন গুণী মানুষের সান্নিধ্যে থেকে আমরা শুধু সংগীত নয়, সততা, সাহস ও আদর্শের শিক্ষাও পেয়েছি।