ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকার। গতকাল বুধবার নবান্নে বিএসএফ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এ কথা জানান।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সিএএ অনুযায়ী ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পর যারা ভারতে প্রবেশ করেছে, তারা সবাই অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে বিবেচিত হবে। তাদের শনাক্ত করে আটক করা হবে এবং পরে বিএসএফের মাধ্যমে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে।
শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, পশ্চিমবঙ্গে অপরাধ ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বড় অংশই বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অনুপ্রবেশকারী।
তিনি বলেন, সিএএর আওতায় যারা নেই, তারা অনুপ্রবেশকারী। রাজ্য পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে বিএসএফের হাতে তুলে দেবে। পরে বিএসএফ বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করবে।
তিনি আরও জানান, অনুপ্রবেশকারীদের বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এক বছর আগেই রাজ্যকে নির্দেশনা পাঠিয়েছিল। তবে তৎকালীন তৃণমূল সরকার সেই নির্দেশনা কার্যকর করেনি। বর্তমান সরকার জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে বাংলাদেশ থেকে আসা মতুয়া ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিলেও মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সিএএর আওতায় থাকা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। বরং নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তারা ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
শুভেন্দু বলেন, ‘যারা ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতে এসেছে এবং সিএএর আওতায় পড়ছে, তাদের পুলিশ কোনোভাবেই হয়রানি করবে না। কিন্তু এর বাইরে থাকা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই ঘোষণাকে ঘিরে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধীরা এটিকে বিভাজনমূলক পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিলেও বিজেপি সরকার বলছে, সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।